Published on
:
2 min read
চতুর্দিক জলে ঘেরা পরিখা। প্রায় ১০০ ফুটেরও বেশি উঁচু ৯ তলা বিশিষ্ট সুবিশাল গোপুরম এবং পাথরে খোদাই করা অনন্য ভাস্কর্য— এক দিক থেকে দেখলে ষাঁড়, আবার অন্য দিক থেকে দেখলে হাতি বলে মনে হয়! তামিলনাড়ুর ভেলোর ফোর্টের ভিতর অবস্থিত প্রাচীন জলকণ্ঠেশ্বর মন্দির স্থাপত্যপ্রেমী, ইতিহাস অনুরাগী ও পুণ্যার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই ঐতিহাসিক মন্দির দর্শনে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থলপতিও। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করেই ভেলোর ফোর্টের মধ্যে লুকনো এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য আবারও খবরের শিরোনামে এসেছে।
অধিকাংশ দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শহরের কেন্দ্রে উন্মুক্ত জায়গায় নির্মিত হলেও, জলকণ্ঠেশ্বর মন্দিরটির অবস্থান ভেলোর দুর্গ প্রাঙ্গণের একদম ভিতরে। এটি মূলত বিজয়নগর সাম্রাজ্যের অনুপম স্থাপত্যরীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি। মন্দিরের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে থাকা সুবিশাল ৯ স্তরের ‘গোপুরম’ ১০০ ফুটেরও বেশি উঁচু। সূক্ষ্ম কারুকার্য ও পাথরে খোদাই দেব-দেবী ও পৌরাণিক নানাবিধ গল্প এতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। মন্দিরের মূল উপাস্য দেবতা জলকণ্ঠেশ্বর (শিব) এবং দেবী অখিলান্ডেশ্বরী।
ছবি: সংগৃহীত
মন্দিরটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটিকে ঘিরে থাকা ‘অগঝি’ অর্থাৎ জলপূর্ণ পরিখা বা খাদ। খাদের উপর পাথরের রাজকীয় মন্দিরটি দেখলে মনে হয় এটি যেন জলের উপর ভাসছে। ‘জলকণ্ঠেশ্বর’ নামের নেপথ্যেও রয়েছে সেই রহস্য। মন্দিরের ভিতরের একটি প্রাচীন কুয়ো রয়েছে, যার নাম ‘গঙ্গা গৌরী তীর্থম’। এই কুয়োর জল দিয়েই দেবতার নিত্য অভিষেক ও পুজো সম্পন্ন হয়।
মন্দিরের ‘কল্যাণ মণ্ডপ’ বা বিবাহ মণ্ডপটি বিজয়নগর ভাস্কর্যের সেরা নিদর্শনগুলির একটি। এখানে একটি বিশেষ পাথরের খোদাই করা ভাস্কর্য রয়েছে যা দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়। কোণ ভেদে এটি দেখলে মনে হয় এটি একটি ষাঁড়, আবার অন্য কোণ থেকে দেখলে মনে হয় একটি হাতি! মণ্ডপের স্তম্ভগুলিতে ইয়ালি (সিংহমুখো পৌরাণিক প্রাণী), ঘোড়া এবং ড্রাগনের সূক্ষ্ম নকশা চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরের অন্দরে থাকা ‘আয়রাঙ্গল মণ্ডপ’ বা সহস্র-স্তম্ভ বিশিষ্ট হল ঘরটির অলঙ্করণ ও সুনির্দিষ্ট কারুকার্য ইতিহাস প্রেমীদের মুগ্ধ করে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে।
কী ভাবে পৌঁছবেন?
বিমানে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মন্দির থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার।
ট্রেনে: নিকটবর্তী প্রধান রেলওয়ে স্টেশন হলো কাটপাডি জংশন। ভেলোর ফোর্ট থেকে মাত্র ৫-৭ কিমি দূরে। এ ছাড়া ভেলোর টাউন স্টেশন থেকেও পৌঁছতে পারেন মন্দিরে। দূরত্ব ১.৫ কিমি।