ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে। শ্বশুরবাড়ি কৈলাস (স্বর্গলোক) থেকে কন্যারূপে দেবী দুর্গা বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আসছেন। এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়), বিদায় নেবেন নৌকায়। আজ পূর্বাহ্ণে (সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের আগে) দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সায়ংকালে (সন্ধ্যায়) হবে দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ১০ অক্টোবর। এর মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষ শুরু হয়। আর আজ দুর্গাষষ্ঠীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দুর্গাপূজা। এবার মহাসপ্তমী দুদিন— ১৭ ও ১৮ অক্টোবর (শনি ও রবিবার)। ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী-প্রতিমা বিসর্জন। সেদিন বিকাল ৩টায় ঢাকাসহ সারাদেশে বিজয়ার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে এর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানায়
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, নিরাপত্তা শুধু পূজার
পাঁচদিনের চিন্তা হতে পারে না। বছরের ৩৬৫ দিনই সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংঘাত-সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় করা ১১টি মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, পূজার মধ্যে আমরা এসব হামলার ঘটনা আর দেখতে চাই না। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নয়, রাষ্ট্রের আলোকিত চেতনা ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এই সহিংসতার অবসান ঘটাতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে। দুর্বৃত্তদের বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমরা তা দেখতে চাই।
সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলা হয়, আমরা এমন একটি সমাজের অপেক্ষায় আছি, যে সমাজে ঈদ-পূজা-বড়দিন-বুদ্ধ পূর্ণিমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও সর্বজনীন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে, অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে, কোনো ধরনের ভয়ভীতি এবং পুলিশি পাহারা ব্যতিরেকে অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, সব ধর্মীয় নেতাদের জন্য ভাতা চালু এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য সরকারি বরাদ্দ ১ কোটি টাকা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। সভায় সুষ্ঠুভাবে পূজা আয়োজনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২২ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
