Published on
:
2 min read
উৎসবের মরশুমে ট্রেন-বাসের ভিড় বা মণ্ডপের দীর্ঘ লাইন—শহর কলকাতার চিত্রটা এখন এমনই। তবে অনেক সময়ই দীর্ঘক্ষণ ঠেলাঠেলি বা বদ্ধ জায়গায় ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা দমবন্ধ হয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতেই পারে। চিকিৎসকদের মতে, বাতাসে অক্সিজেনের অভাবের পাশাপাশি ভিড়ের মধ্যে তৈরি হওয়া শারীরিক অস্বস্তি, চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তৈরি আতঙ্ক, উদ্বেগ—এমন নানা কারণেই ‘সাফোকেশন’ বা দমবন্ধ ভাব শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্যানিক না করে চটজলদি আরাম পাওয়ার জন্য কিছু সহজ পন্থা মাথায় রাখা প্রয়োজন।
১. ‘বক্স ব্রিদিং’ বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস
ভিড়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় শুরু হলে সবচেয়ে আগে শ্বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
নাক দিয়ে ধীরে ধীরে বড় শ্বাস নিন (৪ সেকেন্ড ধরে)।
শ্বাসটি ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন।
মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বের করে দিন (৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে)।
এই পদ্ধতি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।
২. হাতের তালু ও ঘাড় ঠান্ডা করা
সঙ্গে ছোট জলের বোতল থাকলে, সামান্য জল নিয়ে নিজের ঘাড়ের পিছনের অংশ, কপাল, কান ও কব্জিতে দিন। আমাদের শরীরের এই অংশগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি থাকে। এই বিশেষ অংশে জল ছোঁয়ালে মস্তিষ্কে দ্রুত ঠান্ডা অনুভূতি পৌঁছয় এবং শারীরিক অস্থিরতা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. ভিড় বা শারীরিক স্পর্শের পরিধি বাড়ানো
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ালে হাত দু’টি একদম শরীরের সঙ্গে সেঁটে না রেখে বুকের সামনে ক্রস করে রাখুন অথবা কনুই দু’টি সামান্য বের করে নিজের চারপাশে কিছুটা ফাঁকা জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করুন। এতে বুকের খাঁচায় সরাসরি চাপ পড়ে না, ফলে শ্বাস নিতে কিছুটা সুবিধা হয়।
৪. লেবু, লবঙ্গ বা মিন্ট সঙ্গে রাখা
ভিড়ের মধ্যে গেলে এমন সমস্যা যদি প্রায়শই হয়, তবে ব্যাগে সবসময় পাতিলেবু, লবঙ্গ বা মিন্ট দেওয়া লজেন্স রাখুন। বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরা সাময়িক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এই টোটকা। সেন্সরি অর্গ্যান সজাগ হওয়ায় মাথা ঘোরার অনুভূতি দ্রুত কেটে যায়।
৫. দৃষ্টি বা মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো
অ্যাংজ়াইটির কারণে ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আরও বেশি অসহায় মনে হয়। তাই যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, সেটির শেষ কোথায় তা না ভেবে আশেপাশে থাকা কোনও নির্দিষ্ট বস্তু, রং বা নিজের হাতের আঙুল গুনতে শুরু করুন। মন অন্যদিকে ঘুরলেই হৃদস্পন্দন বা পালস রেট স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কখন লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন?
যদি দেখেন জল খাওয়ার পরেও মাথা ঘোরা কমছে না, চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসছে বা বুক চেপে ধরছে কেউ কিংবা যন্ত্রণা হচ্ছে—তবে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে আশপাশের মানুষকে জানান এবং লাইন থেকে বেরিয়ে কোনও খোলা জায়গায় গিয়ে বসে পড়ুন। প্রাথমিক আরামের পর দ্রুত জল ও ORS বা নুন-চিনির জল খাওয়া জরুরি।