দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনে তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা যুবদলের সভাপতি ফুয়াদ রেজা ফাহিম। নতুন কমিটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
ফুয়াদ রেজা ফাহিম বলেন, দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের একটি তারুণ্যনির্ভর ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
কমিটি গঠন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানকে জড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা তার মতে, তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
ব্যাংককে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ফাহিম বলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনে তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সেখানে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা হলে তাদের ছবি তোলা হয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, ওই সাক্ষাতের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কোনো সম্পর্ক নেই।
অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনে মতভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে সংগঠনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দায়িত্বশীল বক্তব্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ফাহিম বলেন, গত ১৭ বছরে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা বাধার মধ্যেও দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ-সংক্রান্ত ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদলে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী সময়ে যুবদলে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ফাহিম বলেন, সাত বছর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী কমিটিতে সিনিয়র সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্যও তিনি নাকচ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সভাপতি বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও সংগঠন সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা উচিত। গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীল আলোচনার মাধ্যমে সাংগঠনিক পরিবেশ আরও ইতিবাচক করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জনি, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি জাকারিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, যুগ্ম সম্পাদক জব্বার মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বি ও দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অনিক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
