ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিল ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিরোধীদল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের যোগদানে এই বিক্ষোভ রূপ নিয়ে ফেলেছিল সরকারবিরোধী আন্দোলনে। প্রশাসনিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে প্রাথমিকভাবে মোদি সরকার কিছুটা সফল হলেও এখনো আন্দোলন জোরদারে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি ও মূলধারার বিরোধী দলগুলো।
এ অবস্থায় এবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেইসঙ্গে ব্যাতিক্রমী আরেক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে— বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের জন্য দিল্লিতেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে তিনটি জায়গা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের বিকল্প স্থান হিসেবে রাজধানীর তিনটি জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত স্থানগুলো হলো মধ্য দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। এসব স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজনের নিয়মকানুন নিয়ে সংশোধিত নির্দেশনা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাগরিকেরা যাতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজনের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য বিকল্প উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এর আগে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি করা পুলিশের একটি নির্দেশনায় বিক্ষোভ আয়োজনের স্থান ও নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওই নির্দেশনার কিছু অংশ সংশোধন করা হয়েছে।
সোমবারের নির্দেশে পুলিশ জানিয়েছে, নতুন তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সংশোধিত কার্যপদ্ধতি বা এসওপি আলাদাভাবে জারি করা হবে।সম্প্রতি ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক প্ল্যাটফরম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সুবাদে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের নিকটবর্তী যন্তর মন্তর এলাকাটি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন এই যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ শুরু করেছিল সিজেপি এবং সেই বিক্ষোভ সফলও হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছিল সিজেপি। কিন্তু রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই কর্মসূচি করতে পারেনি সিজেপি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে আটক সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে ‘এক বছর শান্ত থাকার’ মুচলেকা দিয়ে গতকাল রোববার ছাড়া পেয়েছেন।
