অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘোষণার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছে এবং বাণিজ্যিক নৌপথ সচল রাখতে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হরমুজে মার্কিন সামরিক তৎপরতা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের হামলার খবর অস্বীকার করেছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ফুজেইরাহ তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, যেখানে আগুন ধরে যায়। আরব আমিরাতের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে।
হরমুজ পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংকট আরও গভীর হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা, ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে। তাদের ভাষ্য, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, ওমান সাগর ও হরমুজের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ইরানের দাবি, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ও রকেট ছোড়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় দেশগুলোও। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
