শুটিংয়ে দুর্ঘটনা, আহত অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ তার মুখের ওপর পড়ে যান চিত্রগ্রাহক। এতে উর্বী নাকে গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটি তার জন্য ছিল ভীষণ ভীতিকর। তবে দুর্ঘটনায় কারও কোনো দোষ নেই বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
প্রিয়ন্তী উর্বী লিখেছেন, ‘গতকাল শুটিংয়ে আমার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। সত্যি বলতে, অভিজ্ঞতাটা ছিল ভয়ংকর! আমি একটা মিউট শট দিচ্ছিলাম, যেখানে আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলাম আর সবাই মিলে বেডটা টেনে আমাকে একটা রুমে নিয়ে যাচ্ছিল। ক্লোজ শটের জন্য আমাদের ডিওপি বেডের ওপর উঠে আমার মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন। আমরা তখন মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে শুট করছিলাম। শটের মাঝখানে বেডটা ঝাঁকি খাওয়ায় আমাদের ডিওপি ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেন, আর ক্যামেরাসহ সরাসরি আমার মুখের ওপর পড়ে যান। এক মুহূর্তের জন্য আমি কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না, কথা বলতে পারছিলাম না। ব্যথাটা ছিল অসহ্য! এরপর আমরা হাসপাতালে যাই, এক্স-রে করাই। এখন ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। সবাই নিজের কাজটা ঠিকভাবেই করছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাটা আমার সঙ্গে ঘটেছে, আর আমি যে ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেটা একদম বাস্তব।’
আরও পড়ুন
‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা আরজে মিটে মারা গেছেন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
আরজে মিটে
-->যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা আরজে মিট মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার প্রতিনিধিরা।
তবে মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড জানায়, স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে অভিনেতার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যমটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করলেও তার প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেননি।
আরজে মিটের প্রতিনিধিরা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা প্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের একনিষ্ঠ প্রবক্তা আরজে মিটের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি।’
তারা আরও বলেন, এএমসির সমালোচকদের প্রশংসিত ও পুরস্কারজয়ী ধারাবাহিক ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার ‘ফ্লিন’ হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মিট সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। সেরিব্রাল পালসি নিয়ে নিজের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তার অভিনয়ে বাস্তবতা এনে দিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সচেতনতা ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছিলেন।
অভিনয়ের বাইরেও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন মিট। তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি এবং শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
২০০৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া ‘ব্রেকিং ব্যাড’ ধারাবাহিকে ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন মিট। বাস্তব জীবনেও তার সেরিব্রাল পালসি ছিল। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি পর্দায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনকে আরও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করেন। সূত্র: টিএমজেড
অমিয়/
আরও পড়ুন
দিঠির নতুন গান এবং…
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দেড় মাসেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রে সময় কাটিয়ে কয়েক দিন আগেই দেশে ফিরেছেন শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী, উপস্থাপিকা দিঠি আনোয়ার। দেশে ফিরেই তিনি ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন নানান কাজে। তেবে দেশে ফেরার মাঝেই তিনি দুবাইতে কয়েক দিন ছিলেন। সেখানে বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন এবং অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
দেশে ফিরেই দিঠি ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড’-এর একজন সদস্য হিসেবে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি সিনেমা, ডকুমেন্টারি, ইংরেজি ও চাইনিজ মুভি দেখছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘দিঠি আনোয়ার’ নিয়েও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন দিঠি। প্রতিনিয়তই চ্যানেলে মৌলিক গান, কাভার সং প্রকাশ করছেন।
এরই মধ্যে ‘একটা তাজমহল বানাইয়া’, ‘দেরে দেরে প্রেম দেরে’, ‘আকাশকে প্রশ্ন করো’, ‘ঘড়ির কাঁটা’, ‘এমনি করেই একদিন’ গানগুলো প্রকাশিত হয়েছে দিঠির কণ্ঠে। প্রকাশিত দ্বৈত গানগুলোতে তার সহশিল্পী অপু আমান এবং সবগুলো গানই তার বাবা গাজী মাজাহারুল আনোয়ারের লেখা। ‘নিশানা’ সিনেমায় আবিদা সুলতানার গাওয়া ‘এমনি করেই একদিন’ গানটি সর্বশেষ প্রকাশিত গান। এই গানে মডেল হিসেবে দিঠির সঙ্গে আছেন তার স্বামী পূবালী ব্যাংকের পরিচালক আরিফ চৌধুরী।
এ ছাড়াও মহালয়ার প্রথম দিনে ইউটিউবে দিঠির কণ্ঠে একটি প্রার্থনা সংগীত প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বরঙ-এর আয়োজনে। এই গানটি ‘চণ্ডীদাস ও রজকিনী’ সিনেমার। গানটি লিখেছেন দিঠির বাবা, সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলী। নতুন করে গানটির সংগীতায়োজন করেছেন তানভীর আলম সজীব।
দিঠি আনোয়ার বলেন, ‘ব্যস্ততার মাঝেই আমি প্রচণ্ড আনন্দ খুঁজে পাই, ভালো লাগা খুঁজে পাই। সত্যি বলতে কী, এখন তো আসলে বছরের নির্দিষ্ট একটা সময় আমাকে দেশের বাইরে থাকতে হয় আমার দুই ছেলের পড়াশোনার জন্য। যে সময়টাতে দেশে থাকি ভীষণ ব্যস্ততার মাঝে কাটে আমার। যেমন আসার সময় দুবাইতে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি, গানে গানে সবাইকে মুগ্ধ করার চেষ্টা করেছি। আবার দেশে ফিরেই ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ডের কাজ করার সমানতালেই আমাকে নতুন নতুন গানও প্রকাশ করতে হচ্ছে। কারণ আমি আমার নিজের নামের ইউটিউব চ্যানেলটিকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছি যেন এটি একটি আর্কাইভ হিসেবে ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজে আসতে পারে।’
আরও পড়ুন
কঙ্গনা বললেন ষড়যন্ত্র
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ভারতে চলছে সিজেপির বিক্ষোভ ও পুলিশি ধরপাকড়। এবার প্রতিবাদীদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি সাংসদ ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত।
এই অভিনেত্রীর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে যে প্রতিবাদ চলছে, তা আসলে দেশকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র। তার কথায়, এখন সাধারণ মানুষও এই শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছেন। দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি ধরপাকড় এবং আন্দোলনকারীদের একের পর এক হুঁশিয়ারির পরই কঙ্গনার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এই দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে সামনে আনছেন। পুলিশকে বাদ দিন, সাধারণ মানুষও এখন ওদের ধরবেন এবং জবাব চাইবেন। কারণ মানুষ ওদের চিনতে শুরু করেছেন।’
একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে, এমন বিভিন্ন শক্তির প্রশংসা করেন এই তারকা। তবে আন্দোলনের জেরে সাধারণ মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলেছেন বিজেপির এই সাংসদ।
সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। এসআইআর-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
দিল্লিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চলে। আন্দোলনে যোগ দিতে আসা অসংখ্য মানুষকে আটক করা হয়। বিরোধী দলের নেতারাও পুলিশের ধরপাকড়ের মুখে পড়েন। যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভের কারণে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। দিল্লিগামী কিছু ট্রেন বাতিল এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার প্রসঙ্গ টেনে কঙ্গনা বলেন, আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সিজেপির এই আন্দোলন নিয়ে এর আগেও নানা কথা বলেছেন কঙ্গনা। গত জুলাইয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে সংগঠনটির প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। সেই আন্দোলনের জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। সেই সময় তরুণ বিক্ষোভকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলেছিলেন অভিনেত্রী। সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গেও প্রকাশ্যে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন কঙ্গনা।
আরও পড়ুন
হিমঘরে মরদেহ, ছেলে দেশে ফিরলেই নাসিমা খানের দাফন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ষাটের দশকের বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার বড় ছেলে দেশে ফেরার পরই এ আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত অভিনেত্রীর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফিরলে বৃহস্পতিবার তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। নাসিমা খানের বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, তার ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ। জীবদ্দশায় দুই ছেলের কারও সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা হয়নি নাসিমা খানের। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
নাসিমা খান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের একজন। ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন তিনি। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।
নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। তখন ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা পরিচিত মুখ। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।
১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।
নাসিমা খান অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
‘আসবন গ্যায়ে মতি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন নাসিমা খান। বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তার কাজের মধ্য দিয়ে ষাটের দশকের ঢাকার চলচ্চিত্রজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পার করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করার পর নিয়মিত নাটকে অভিনয় করেছেন নাসিমা খান। এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোজিব অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
