Published on
:
2 min read
এই সময়, মেদিনীপুর: ওঁদের পুজো কাটল এ বার অন্য ভাবে। মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে থাকলেও প্রাচীর টপকে পুজোর হাওয়া ঢুকে পড়েছিল সেখানেও। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা এবং পিংলার প্রাক্তন বিধায়ক অজিত মাইতি আর পাঁচ আসামিদের মতো সংশোধনাগারেই কাটালেন পুজো।
প্রত্যেকবার পুজোর সময়ে বন্দিদের জন্য থাকে বিশেষ মেনু। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সপ্তমীতে ডিমের ঝোল ও সব্জি। পরের দিন দ্বিতীয় সপ্তমীতে মুরগির মাংসের আয়োজন করা হয়েছিল। অষ্টমীতে পরিবেশন করা হয় খিচুড়ি, সব্জি ও চাটনি। নবমীতে ছিল ভাত, সব্জি, খাসির মাংস ও মিষ্টি। দশমীতে পাতে দেওয়া হয় মাছ-ভাত ও অন্য তরকারি। প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও ওই সংশোধনাগারে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। দুর্গাপুজো মানেই উৎসব, আনন্দ, মানুষের সঙ্গে দেখা করা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়। কিন্তু এ বার আর সে সব হলো কই ওঁদের। দুর্গাপুজো অন্য ভাবে কাটল মেদিনীপুরের তিন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি থাকায় সেখানকার স্থায়ী দুর্গামণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করেই পুজোর দিনগুলি কাটাতে হলো সুমিত, সুজয় ও অজিতকে। একসময়ে রাজনৈতিক কাজের সূত্রে যাঁদের সঙ্গে দেখা করতে বহু মানুষ ভিড় করতেন, এ বারের পুজোয় তাঁদের সময় কাটল সংশোধনাগারের নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে। বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানানো কিংবা বিজয়ার প্রণাম করার সুযোগ ছিল না তাঁদের পরিচিতদের। অন্য দিকে, পরিবারের সদস্যদেরও প্রিয়জনদের ছাড়া পুজো কাটাতে হয়েছে। মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে প্রায় দেড় হাজার আবাসিক রয়েছেন। প্রতি বছরের মতো এ বারও সেখানে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সংশোধনাগারের ভেতরে রয়েছে স্থায়ী দুর্গামণ্ডপ। সেখানে নিয়ম মেনে পুজোর আয়োজন হয়। আবাসিকদের অনেকেই পুজোর বিভিন্ন কাজে অংশ নেন। পুজোর দিনগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। আবাসিকরা নিজেরা অনুষ্ঠান করেন এবং অন্যরা তা উপভোগ করেন। সূত্রের খবর, সুমিত রায়, সুজয় হাজরা ও অজিত মাইতিও অন্য আবাসিকদের সঙ্গে পুজোর দিনগুলি কাটান। একসঙ্গে খাবারও খেয়েছেন তাঁরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও দেখেছেন অন্য বন্দিদের সঙ্গেই। সংশোধনাগারের ভেতরে থাকা দুর্গাপ্রতিমা দর্শন এবং পুজোর নানা আয়োজন করতে করতেই পুজো কাটান তিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
উল্লেখ্য়, বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের পরে সুমিত, সুজয় ও অজিত বর্তমানে সংশোধনাগারে রয়েছেন। তিন জনের ক্ষেত্রে মামলাগুলির প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলছে। সব মিলিয়ে, বাইরে যখন উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছিলেন মানুষ, তখন মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ভেতরে অন্য আবহেই দুর্গাপুজো কাটাতে বাধ্য হলেন এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। কেউ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেন, আবার কেউ মুখে রুমাল বেঁধে একটু দূরে দূরেই থেকেই পুজো উপভোগ করলেন।
