দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে (নরমাল ডেলিভারি) সন্তান প্রসবের হার দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের সার্বিক আন্তরিকতা এবং দক্ষতার কারণে মায়েরা স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হচ্ছেন। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে জেলার মধ্যে নরমাল ডেলিভারিতে শীর্ষে অবস্থান করছে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের গত নয় মাসে এখানে সিজার ছাড়াই ৩৫৪টি শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৫১, ফেব্রুয়ারিতে ৫১, মার্চে ৩৬, এপ্রিলে ৩৩, মে মাসে ৪৭, জুনে ২৯, জুলাইয়ে ৩১, আগস্টে ৩৩ এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন সেবায় খুশি স্থানীয়রা। শুধু সেবাই নয়, শিশুর জন্মের পরপরই হাসপাতাল থেকে জন্মনিবন্ধনের জন্য একটি বিশেষ সনদও দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তান জন্ম দেওয়া প্রসূতি মায়েরা জানান, শুরুতে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে তাদের মনে বেশ ভয় ছিল। তবে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শ ও প্রসব-পূর্ব পরিচর্যায় সেই ভয় কেটে যায়। অস্ত্রোপচার না লাগায় একদিকে যেমন চিকিৎসাব্যয় বেঁচেছে, অন্যদিকে মা ও নবজাতক উভয়ই দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজ সুলতানা জানান, মাতৃমৃত্যুর হার কমানো এবং নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করতে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক দক্ষ মিডওয়াইফ প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের সেবাদান ও চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই এই সফলতা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রাসুল রাখি বলেন, বীরগঞ্জ থেকে জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব বেশ বেশি। দুস্থ ও অসহায় প্রসূতিদের পক্ষে বাইরে গিয়ে ব্যয়বহুল সিজারিয়ান অপারেশন করা বেশ কষ্টকর। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত একজন স্থায়ী সিজারিয়ান চিকিৎসক (সার্জন) নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হলে নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি জরুরি অস্ত্রোপচার সেবাও এখান থেকেই দেওয়া সম্ভব হবে।
