ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নাদিয়া আক্তারের (১৮) মৃত্যুকে ঘিরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা; ঘটনার পর স্বামী কাউসার ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষমাণ।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নাদিয়া আক্তার (১৮) নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী কাউসার ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন। তবে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিহতের মা ময়ফুল বানু গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
নিহত নাদিয়া আক্তার উপজেলার হাতিখলা গ্রামের নূর চান মিয়ার ছেলে কাউসারের স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম নাজিম উদ্দিন। তিনি উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের নামা বাগবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে কাউসারের সঙ্গে নাদিয়ার বিয়ে হয়।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাদিয়ার সঙ্গে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির মনোমালিন্য চলছিল। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এ কারণে নাদিয়াকে বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন করা হতো।
নিহতের মা ময়ফুল বানু জানান, বুধবার দুপুরে নাদিয়া ফোন করে তাঁকে জানিয়েছিলেন, কিছুক্ষণ পর বাবার বাড়িতে আসবেন। মেয়ের ফোন পেয়ে তিনি রান্নাবান্না করে অপেক্ষা করছিলেন। পরে রাত ৮টার দিকে কাউসারের এক আত্মীয় ফোন করে নাদিয়ার মৃত্যুর খবর দেন। রাত ৯টার দিকে তাঁরা নাদিয়ার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় বাড়িতে অনেক মানুষ থাকলেও নাদিয়ার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে নাদিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অভিযুক্তদের না পেয়ে নাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
গফরগাঁও থানার এসআই কবির হোসেন জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাদিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুতে হাতিখলা গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
