আজকের পত্রিকা ডেস্ক
সম্ভাব্য অর্থপাচার ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ব্যাংকটি ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য সরকারকে জানায়নি। এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন জাতীয় নিরাপত্তা ও অবৈধ অর্থায়নের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যর্থতার মধ্যে এমন কিছু লেনদেন শনাক্ত না করার ঘটনাও রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে চীনা অর্থপাচারকারী নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য যোগসূত্র রয়েছে। এমন বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের ঘটনাও শনাক্ত করা হয়নি।
বিবিসিকে ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি এবং তা সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বুধবার সকালে ব্যাংকটির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল। তার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে জরিমানার ঘোষণা আসে।
ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে ব্যাংকটি বলেছে, ‘তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলে ১২০ কোটি ডলারের এমন একটি ব্যয় দেখানো হবে, যার ওপর কর ছাড় পাওয়া যাবে না। এর ফলে শেয়ারপ্রতি নিট আয় প্রায় ১৭ সেন্ট কমবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘চলমান সংশোধনমূলক কার্যক্রমে আমরা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী নিয়োজিত করেছি এবং বিপুল সম্পদ বরাদ্দ দিয়েছি। এসব ব্যয় বর্তমান ব্যয়ের হিসাবের মধ্যেই রয়েছে।’
জরিমানার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এ মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে এটি তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা। তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় একটি ব্যাংক অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি শুধু ব্যাংকটির নিজস্ব গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা অবৈধ অর্থায়নের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।’
অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্যাংক অব আমেরিকা নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পরিবর্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো বাইরের পক্ষগুলোর অনুসন্ধান ও তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছিল।
মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, এর ফলে ব্যাংকটি ‘নিজের উদ্যোগে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত ও তা জানানোর বাধ্যবাধকতার বড় একটি অংশ কার্যত তৃতীয় পক্ষের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল’।
সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্যাংক অব আমেরিকা স্বীকার করেছে, অর্থপাচার প্রতিরোধে বিধিসম্মত কর্মসূচি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে, বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে পরিচালিত করেসপন্ডেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করে এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা না দিয়ে তারা ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্টের বিধান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন’ করেছে।
মোট ১২০ কোটি ডলারের জরিমানার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (ওসিসি) এবং বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) আরোপ করা জরিমানাও রয়েছে। এর মধ্যে ওসিসি ৭৫ কোটি ডলার জরিমানা করেছে। সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ জরিমানা।
ওএফএসি জানিয়েছে, ব্যাংকটির সঙ্গে তাদের ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের সমঝোতা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, মাদকদ্রব্য এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির সম্ভাব্য ৪৭৫টি লঙ্ঘনের ঘটনায় এই সমঝোতা করা হয়েছে।
ওএফএসি বলেছে, ব্যাংক অব আমেরিকার সম্ভাব্য লঙ্ঘনগুলোকে ‘গুরুতর নয়’ বলে বিবেচনা করায় সমঝোতার অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

