দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরিতে ভুগছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গতিতারকা নাহিদ রানা। চোটের কারণে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন এই পেসার। খেলতে পারেননি বেশ কয়েকটি সিরিজে। এবার জানা গেল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন করে চোট পেয়েছিলেন নাহিদ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত মাসের শেষ দিকে অনুশীলনের সময় এই সমস্যা দেখা দেয়। এরপর উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় চলছে নাহিদের পুনর্বাসন
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে চিকিৎসক পিটার দি আলেসান্দ্রোর পরামর্শ নিয়েছেন নাহিদ রানা। সেখানে ১০ দিনের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এই ডানহাতি পেসার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সূত্র অনুযায়ী, তাঁর চোট খুব বেশি গুরুতর নয়।
তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে আরও সময় লাগবে। দেশে ফেরার পর তিন থেকে চার সপ্তাহ নিজের ওয়ার্কলোড বা শারীরিক কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করতে হবে তাঁকে। এ সময় ধাপে ধাপে বোলিংয়ের চাপ বাড়িয়ে ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত হওয়ার প্রক্রিয়া চলবে।
এ কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজে নাহিদকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। একইভাবে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও এই গতিতারকার খেলা অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।
নাহিদকে না পাওয়া বড় ধাক্কা, বলছেন প্রধান নির্বাচক
দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসারকে না পাওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তবে নাহিদের অনুপস্থিতিতে অন্য পেসারদের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চান না তিনি।
হাবিবুল বাশার বলেন, ‘দলের ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ দিতে চাই না। আমরা ভালো খেলছি। সব ম্যাচই জরুরি। আগেই চাপ দিলে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। প্রক্রিয়া যেন ঠিক থাকে, ফল তো দেখবই।’
নাহিদের চোট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘নাহিদ রানাকে না পাওয়া অনেক বড় সেটব্যাক। ইনজুরি নিয়ে তো কিছু করার নেই। তবে নাহিদ রানা বাদেও যারা খেলছেন, তারাও ভালো করছেন।’
অন্য পেসারদের পারফরম্যান্সে আশাবাদী নির্বাচক
নাহিদ রানা দলের বোলিং আক্রমণে বাড়তি গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করেন। তাঁর গতি প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তাই তাঁকে না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতি।
তবে দলের অন্য পেসারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আশাবাদী হাবিবুল বাশার। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও শরিফুল ইসলামের মতো বোলারদের ওপর আস্থা রয়েছে তাঁর।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমাদের বাকি ফাস্ট বোলাররা সবাই খুব ভালো করছেন। তাসকিন টেস্টে, নাহিদ রানা ছাড়াও বাকিরা যারা আছেন, সবাই খুব ভালো বোলিং করছেন। হাসান, এবাদত, শরিফুল আগের টেস্টে ছয় উইকেট পেয়েছেন। আমার মনে হয়, আমাদের ফাস্ট বোলিং বিভাগ যথেষ্ট ভালো।’
নাহিদ রানার সামর্থ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘নাহিদ রানা থাকলে এক্স ফ্যাক্টর থাকে। তবে যেহেতু চোট আছে, সেখানে অত চিন্তা করছি না। দলে যারা আছেন, তাঁদের নিয়েই ভাবছি।’
কবে মাঠে ফিরবেন নাহিদ রানা?
নাহিদের মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানা যায়নি। দেশে ফেরার পর তিন থেকে চার সপ্তাহ ওয়ার্কলোড নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থা, বোলিংয়ের সক্ষমতা এবং ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ দলের জন্য আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাহিদকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা। তাড়াহুড়ো করে মাঠে ফেরানোর পরিবর্তে পুনর্বাসন শেষ করে তাঁকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে চায় দলসংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, তাঁর অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলাতে হবে বাকি বোলারদের।
The post নাহিদ রানার ইনজুরির সর্বশেষ অবস্থা জানালেন প্রধান নির্বাচক appeared first on SATV.
