কুমিল্লা সদর উপজেলায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কক্সবাজার থেকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের কলাতলীর লালোয়া রিসোর্টের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রাজু বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এ ছাড়া মাত্র ১৮ দিনের সম্পর্কের সূত্র ধরে কক্সবাজার নিয়ে আসে রাজু। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে উঠেন মেঘলা রিসোর্টে। সেখানে একরাত থাকার পর পরের দিন বাসে তুলে দেন রাজু৷
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, কলাতলীর একটি রিসোর্ট থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মেয়েটি নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় লালমায় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ওই কিশোরী। পুলিশের দাবি, প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে যায়।
রাজুকে আটকের পর তার কক্সবাজারে যাওয়া, সেখানে হোটেলে অবস্থান এবং কুমিল্লায় ফেরার যাত্রাপথ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রাজুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী এবং হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ।
কিন্তু রাজু জানিয়েছেন কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে কিশোরী তার কাছে এসেছিল এবং বাবা-মায়ের বার বার কল আসায় রাজু তাকে পরিবারের কাছে ফিরতে গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়। সিএনজিতে ওঠায় রাজু তাকে বকাও দিয়েছিল এবং বাড়ির গেট খোলা না পেলে বাইরে বসে থাকতে লাইভ লোকেশনে পরামর্শ দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন রাজু।
