আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। মঙ্গলবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক...........
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক ডেস্কসৌদি আরবের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। মঙ্গলবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনে এই আঘাত হানা হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ভবনের ওপরের তিনটি তলা আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোকে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা করে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছে।
তেল স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বারবার হুতিদের হামলার শিকার হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবারের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন এবং রোববারের হামলায় আরও একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া রিয়াদের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি জোট প্রতিহত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত ও ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরামকো সদর দপ্তরে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৯১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত দুটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
এই ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণ প্রকল্প ও ভিশন ২০৩০-এর জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন ও ব্যবসার নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি এসব হামলার কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হুতিদের দমনে ইসরায়েল সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিলেও দেশের অভ্যন্তরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় যুবরাজ সালমান তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি এবং তাইজের আশপাশে হুতি ও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। হুতিদের অবরোধের কারণে তাইজে ছয় লাখের বেশি মানুষ জীবনরক্ষাকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। যুদ্ধাহত মানুষের চাপে ইয়েমেনের হাসপাতালগুলো পুরোপুরি হিমশিম খাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ