কালবেলা · খেলাধুলা
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে টুর্নামেন্ট ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ
১৫/১০/২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল) টুর্নামেন্ট চলাকালে বাউন্ডারির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সংঘর্ষের সূত্রপাত। এ বিরোধ পরে অগ্নিবীণা হল ও কলা ভবন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে অন্তত ছয় শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাদের কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, এনপিএল চলাকালে বাউন্ডারিকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও পাশে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও গালিগালাজ হয়। খেলা শেষে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুপক্ষ একত্র হলে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভকে ২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মারেন। এরই জেরে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাত, নাসিমসহ আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। বলা হচ্ছে, ফুটবল খেলতে আসা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ হামলা করেছে। একপর্যায়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হলে দুপক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।
এদিকে, সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আরটিভির প্রতিনিধি আবু তাহেরের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও মুছে ফেলা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সংঘর্ষে আহত ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে প্রথমে ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপরপক্ষের দিদারুল ইসলাম আঘাত পেয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। অন্যদিকে, আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ৬ জন আহত বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলতে পারব।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗