সিলেটের ওসমানীনগরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের ২০ জন আজীবন দাতা সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ৬০ লাখ টাকার হিসাব চেয়ে দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত চলাকালেই গত ৮ অক্টোবর এক কোটি টাকা আত্মসাতের পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দাতা সদস্য নির্বাচন, আর্থিক স্বচ্ছতা ও পরিচালনা কমিটির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের অনুদানে ২০২০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি ইআইআইএন (১৪০০৬২) লাভ করে। তবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা ও দাতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, রেজুল্যুশন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টিতে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর টাঙানো হয় নতুন ২০ জন আজীবন দাতা সদস্যের তালিকা। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, অ্যাডহক কমিটিকে না জানিয়ে এবং নীতিমালা লঙ্ঘন করে এই তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম স্থান পেলেও বৈধ দাতা সদস্য আমিনুল হক রিপন, আব্দুল করিম ও সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল লেইসের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দাতা সদস্যদের ৬০ লাখ টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হয়েছে কি না—তা জানতে অভিযোগ দায়েরের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক রণধীর মোহন দেবকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১১ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক জবাব দিলেও তাতে ৬০ লাখ টাকার বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না। আজ শুক্রবার ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য শামছুল ইসলাম শামীম বলেন, তাদের পরিবার বিদ্যালয়ের জন্য ৪১ শতক জমি দান করেছে এবং আত্মীয়স্বজনেরা দুই বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করেছেন। তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গায়েব করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন হিসাব চাওয়ায় তাদের উল্টো হয়রানি করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ জানান, সরেজমিনে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে দাতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, রেজুল্যুশন ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষিত না থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক রণধীর মোহন দেব বলেন, নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেই দাতা সদস্য নির্বাচন করা হবে। আগের তালিকা কে বা কারা সরিয়ে ফেলেছেন, তা তিনি জানেন না। তবে অর্থ জমার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান আহমদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এক কোটি টাকা আত্মসাতের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন বলে জানান।
