ফ্রান্সের দাঙ্গার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করলেন ট্রাম্প
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এ বক্তব্যকে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানায়। ফ্রান্সে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সহিংসতার জন্য কারা দায়ী, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিতর্কে অভিবাসী ও উন্মুক্ত সীমান্তনীতিকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।
সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ করে অপরাধীদের বের করে না দিলে মহাদেশটি ধ্বংসের মুখে পড়বে। ফ্রান্স ও ইতালির অস্থিরতার জন্য দেশগুলোতে আসা মানুষদের দায়ী করেন তিনি।
তবে কাতার সফরে গিয়ে মাক্রোঁ বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের কারণে ফ্রান্সে দাঙ্গা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। বিদেশি নেতাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করলেও তিনি সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি।
ফ্রান্সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
প্যারিসের কাছে পল এলুয়ার হাইস্কুলের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বিলাল নারজিসি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য ‘বোকামিপূর্ণ কথা’।
তিনি বলেন, “কে কী ভাবছে, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির ওপরই মনোযোগ দিচ্ছি।”
নারজিসির মতে, ভয় ছড়িয়ে রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করতেই কট্টর ডানপন্থীরা এ ধরনের বক্তব্য দেয়।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও কূটনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইউরোপিয়ান পারসপেকটিভ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল দুপুই বলেন, মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করতেই ট্রাম্প এমন যুক্তি তুলে ধরছেন।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলে দেশেও ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এমন ধারণা ছড়ানোর চেষ্টা করছে রিপাবলিকানরা।
গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবনে হামলা ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে দেশটির অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে, এমনকি প্যারিসের কিছু এলাকায়ও সাময়িকভাবে কারফিউ জারি করা হয়।
বিক্ষোভের শুরুতে জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের সংকটের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সামাজিক অসন্তোষও আন্দোলনে যুক্ত হয়। ইতালি, আলবেনিয়া ও স্পেনেও একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অপরাধের সঙ্গে অভিবাসনের সরাসরি যোগসূত্রের কথা জানায়নি। দেশটির আইনে জাতিগত পরিচয় ও বর্ণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।
ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য বামপন্থীদের দায়ী করেছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেন এবং মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের নেতারাও।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার ফ্রান্সের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে অভিবাসন বিষয়ে তার দেশের কঠোর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও বলেছেন, তার দেশ অন্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপের উদারপন্থী রাজনীতিকদের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি দাবি করেন, বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির নামে পশ্চিমা উদারপন্থীরা ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী এনেছেন, কিন্তু তাদের সমাজে মিশে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।
অন্যদিকে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যা থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেও ট্রাম্প ইউরোপের অস্থিরতাকে সামনে আনছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, দেশটির ভোটারদের সামনে কী ঝুঁকি রয়েছে, তা বুঝতে হলে ফ্রান্সের পরিস্থিতির দিকে তাকানো উচিত।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
