উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং সব ধরনের ভেদরেখা অতিক্রম করে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উৎসব সবার। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার শুভ উদ্বোধনে অংশ নিতে পারা আনন্দের বিষয়। আগুন যেমন অনেক কিছুকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি তা মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধতারও প্রতীক। এ প্রসঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রদীপের আলো ও উষ্ণতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে মানুষের মধ্যকার ক্লেদ, গ্লানি ও সংকীর্ণতা দূর করে মানবিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একত্রিত হওয়া সম্প্রীতিরই বহিঃপ্রকাশ। এ উৎসবের আনন্দে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক সম্মান, উদারতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না হয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়েও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজনীয়তা, পরিকল্পনা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।
