ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করার পরেই লাল-হলুদ ছেড়ে ইন্দোনেশিয়ার ক্লাব ভয়ঙ্করায় পাড়ি দিয়েছেন কেভিন সিবিয়ে। কিন্তু প্রাক্তন ক্লাবের খেলার খোঁজ কি এখনও রাখেন তিনি? কেনই বা ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন ঠিকানা বেছে নিলেন? লাল-হলুদে কাটানো দিন, ক্লাব ছাড়ার নেপথ্যের কারণ এবং পুরনো অধ্যায় নিয়ে অকপট কেভিন সিবিয়ে। তাঁর মুখোমুখি কৃশানু মজুমদার।
কেভিন, আপনি ইস্টবেঙ্গল ছাড়লেন কেন? ইস্টবেঙ্গলের অনেক সমর্থকই বিশ্বাস করেছিলেন যে, এই মরশুমেও আপনি দলের রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দেবেন। তাঁরা আশা করেছিলেন, আপনি দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে থেকে যাবেন। ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পিছনে কী কারণ ছিল?
কেভিন- আইএসএল খেতাব জেতার পর ক্লাবে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম। বিশেষ করে, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলে আমরা একটি অসাধারণ দল গড়ে তুলেছিলাম। এএফসি প্রতিযোগিতায় খেলা এবং ট্রফি জয়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। তবে আমি চেয়েছিলাম, ক্লাবের কাঠামো যেন আগের মতোই মজবুত ও সুসংগঠিত থাকে। একটা সময় মনে হয়েছিল, চুক্তি নবীকরণের প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগোচ্ছে। কিন্তু পরে ক্লাবের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে এবং আমার চুক্তির শর্তেও বেশ কিছু বদল করা হয়। এই কারণেই শেষ পর্যন্ত আমাদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
মিগুয়েল যখন ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে মোহনবাগানে যোগ দেন, তখন অনেক লাল-হলুদ সমর্থকই বলছিলেন যে কেভিন সিবিলেকে কোনওভাবেই ছাড়তে দেওয়া চলবে না। তাঁরা চেয়েছিলেন, আপনাকে ধরে রাখার জন্য ক্লাব যেন সবরকম চেষ্টা করে। তবুও ইস্টবেঙ্গল আপনার মতো একজন ডিফেন্ডারকে ধরে রাখতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আপনিও ইন্দোনেশিয়ার ক্লাব ভয়ঙ্করায় যোগ দেন। পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল? ইস্টবেঙ্গল ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পিছনে কি কোনও বিশেষ কারণ ছিল?
কেভিন-আগেই যেমন বলেছি, আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, ক্লাব যেন একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা এবং উচ্চমানের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এগিয়ে চলে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হয়েছিল, সেই পেশাদারিত্ব আর আগের মতো নেই। আমার চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময়ও বিষয়গুলো পুরোপুরি পেশাদারভাবে এগোয়নি। বারবার চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা হচ্ছিল। এর পাশাপাশি, ইমামির সরে যাওয়ার ফলে ক্লাবের আর্থিক স্থিতিশীলতাও নষ্ট হয়ে যায়। এই সমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি অস্কার ব্রুজোঁর বিদায়ও আমাকে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। যেটুকু খবর কানে আসছে তাতে ক্লাবের আর্থিক সঙ্কট রয়েছে। খেলোয়াড়দের বেতন বকেয়া রয়েছে বলেও শুনছি।

ইন্দোনেশিয়ার জীবনের সঙ্গে আপনি কতটা মানিয়ে নিয়েছেন? এখনও কি ইস্টবেঙ্গলের খোঁজখবর রাখেন?নিশ্চয়ই মাঝেমধ্যে ইস্টবেঙ্গলের কথা আপনার মনে পড়ে। আপনি কি এখনও ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখেন? যখন ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে দেখেন, তখন আপনার মনে কী কী ভাবনা আসে?
কেভিন-আমি ইন্দোনেশিয়ায় খুবই ভাল আছি, আর এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটাও বেশ ভালভাবেই এগোচ্ছে। আমি এমন একটি ক্লাবে যোগ দিয়েছি, যারা অত্যন্ত পেশাদার এবং ভবিষ্যতের জন্য দারুণ একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এই বিষয়টি আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে এবং নিজের কেরিয়ারে ক্রমাগত উন্নতি করতে অনুপ্রাণিত করে। অস্কার এবং তাঁর কোচিং স্টাফের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে তাঁদের পেশাদারিত্ব এবং কাজ করার ধরন আমাকে মুগ্ধ করে। তাঁরা অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং নিখুঁত কাজের ব্যাপারে আপসহীন। তাঁরা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সেরাটা বের করে আনেন এবং আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহায্য করেন। ভারতে সারা বছর ধরে তাঁদের অসাধারণ কাজের ফলাফল স্পষ্টভাবেই দেখা গিয়েছিল। আর এখানে ভয়ঙ্করায় তাঁরা ধাপে ধাপে উন্নতি করার চেষ্টা করছেন। যখনই সুযোগ পাই, আমি এখনও ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখি। ইস্টবেঙ্গলে আমার অনেক বন্ধু রয়েছে। ওদের খেলতে দেখা এবং ভাল পারফর্ম করতে দেখে আমার খুব ভাল লাগে। বিশেষ করে ডার্বি ম্যাচ দেখতে আমি ভীষণ ভালোবাসি, এই ম্যাচগুলো আমাকে অতীতের অনেক সুন্দর স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়।
আল-শোর্তার বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচটি কি আপনি দেখেছেন? বা চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আইএসএল ম্যাচ? বর্তমান রক্ষণভাগ সম্পর্কে আপনার কী মতামত?
কেভিন-সত্যি বলতে, আমি আল শোর্তার বিরুদ্ধে ম্যাচটির শুধুমাত্র শেষের দিকটা দেখেছি। তাই পুরো ম্যাচের বিশ্লেষণ করতে পারব না। তবে ইস্টবেঙ্গলকে হারতে দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছে। যতটুকু দেখেছি, গত বছরের দলের সঙ্গে বর্তমান দলের অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে। গত বছর আমরা বলের দখল বেশি রাখতাম এবং আক্রমণভাগেও অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিলাম। আশা করি, দল বর্তমানে যে ভারসাম্যের অভাবে ভুগছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় ফলাফল অর্জন করবে।
আবারও জিজ্ঞাসা করছি, আপনি কি ইস্টবেঙ্গলেই থাকতে চেয়েছিলেন? এই যে চলে গেলেন তাতে ক্লাবের প্রতি কি আপনার কোনো অভিমান বা ক্ষোভ রয়েছে?
কেভিন-ইস্টবেঙ্গল আমাকে আমার জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। এই ক্লাব এবং এর সমর্থকদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। সমর্থকরা আমাকে যে ভালবাসা ও স্নেহ দিয়েছেন, তা এককথায় অসাধারণ। এটাই ফুটবল, কখনও কখনও পথ আলাদা হয়ে যায়, কিন্তু একসঙ্গে কাটানো সুন্দর স্মৃতিগুলো চিরকাল থেকে যায়। তাই ইস্টবেঙ্গলের জন্য আমি সবসময়ই শুভকামনা জানাব এবং ক্লাবটিকে সম্মান করব। মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সমর্থকদের সেই ভালবাসার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আমিও তাঁদের মনে কিছু সুন্দর স্মৃতি রেখে যেতে পেরেছি।
মোহনবাগান কি সত্যিই আপনাকে সই করাতে আগ্রহী ছিল?খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে মোহনবাগান আপনাকে প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই খবরের কি আদৌ কোনও সত্যতা ছিল?
কেভিন-সেই সময় এটা সত্যি যে, মোহনবাগানের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং আমাকে সই করানোর আগ্রহও দেখানো হয়েছিল। আমি যে কাজ করে আসছিলাম, তার স্বীকৃতি হিসেবে বিষয়টি অবশ্যই ভাল লাগার মতো ছিল। তবে সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছে। আমি চেয়েছিলাম, সম্মানজনকভাবে বিষয়টি সামলাতে এবং ইস্টবেঙ্গলকে আমাকে ধরে রাখার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করার সুযোগ দিতে। শেষ পর্যন্ত, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আর চুক্তি হয়নি। ইন্দোনেশিয়ায় অস্কার ব্রুজোঁর সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনার সুযোগটি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ফুটবল সব সময়ই পরিবর্তনশীল, আর একজন পেশাদার ফুটবলারের কেরিয়ারও নানা বাঁক নেয়। ভবিষ্যতে একজন ফুটবলার হিসেবে নিজেকে আরও উন্নত করার সুযোগ দেয়, এমন যে কোনও প্রস্তাব বিবেচনা করার জন্য আমি সব সময়ই প্রস্তুত থাকব। তবে একই সঙ্গে, আমার কেরিয়ারকে যে সম্মানবোধ ও পেশাদারিত্ব সব সময় পথ দেখিয়েছে, তা বজায় রেখেই আমি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে চাই।
আপনার সময়ে কি ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী ছিল বলে আপনার মনে হয়?
কেভিন-ইদানীং আমি ইস্টবেঙ্গলের খেলা খুব একটা দেখিনি, তাই ক্লাবে থাকাকালীন আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই শুধু কথা বলতে পারব। আমার মনে হয়, সেই সময় আমাদের রক্ষণভাগকে বেগ দেওয়া অসম্ভব ছিল। আনোয়ার আলির সঙ্গে আমার বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। আমরা যখন একসঙ্গে খেলতাম, তখন একে অপরের সেরাটা বের করে আনতে পারতাম। আমার মনে হয়, আমাদের পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ দেয়।
যাই হোক, একটি দলকে রক্ষণে শক্তিশালী হতে হলে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। এর কৃতিত্ব দলের সমস্ত খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কোচিং স্টাফদেরও প্রাপ্য। সপ্তাহজুড়ে অনুশীলনে তাঁরা যে অসাধারণ পরিশ্রম করতেন, তার ফলেই আমরা রক্ষণে এতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলাম। তবে হ্যাঁ, সেই রক্ষণভাগ নিয়ে আমরা সত্যিই গর্ব অনুভব করতাম এবং একসঙ্গে যে দুর্দান্ত ম্যাচগুলো খেলেছি, সেগুলো দারুণ উপভোগ করতাম।

আপনার প্রাক্তন সতীর্থরা কি কখনও আপনাকে বলেছেন যে তাঁরা আপনাকে মিস করেন?
কেভিন-আমার প্রাক্তন সতীর্থদের অনেকের সঙ্গেই আমার খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ক্লাবকে বিদায় জানিয়ে চিঠি লেখার পর তাঁদের অনেকেই আমাকে দারুণ সুন্দর কিছু বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তাগুলিতে তাঁরা আমার প্রতি তাঁদের ভালবাসা প্রকাশ করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁরা আমাকে মিস করবেন। শেষ পর্যন্ত, ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর মধ্যে একটি হল, ফুটবল আমাদের জীবনে এমন কিছু বন্ধু এবং সম্পর্ক উপহার দেয়, যা মাঠের বাইরেও থেকে যায়। ভবিষ্যতে তাঁদের অনেকের সঙ্গেই আবার দেখা হবে, এমনটাই আমি আন্তরিকভাবে আশা করি।
ইস্টবেঙ্গল আবার ডাকলে কি আপনি ফিরবেন?
কেভিন-ভবিষ্যতে যদি ইস্টবেঙ্গলে ফেরার সুযোগ আসে, তাহলে আমি অবশ্যই তা বিবেচনা করব, যদি সেখানে একটি মজবুত পরিকল্পনা, ভাল পরিচালনব্যবস্থা এবং এমন ক্রীড়া উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে, যা আমাকে আমার কেরিয়ারে আরও উন্নতি করতে সাহায্য করবে। শেষ পর্যন্ত, ফুটবলার হিসেবে আমরা স্থায়িত্ব, নিজেদের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ভাল প্রকল্প এবং মাঠের ভিতরে ও বাইরে, উভয় ক্ষেত্রেই যথাযথ সম্মান ও মূল্য পাওয়াকে গুরুত্ব দিই।
আইএসএল জয় আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল? আইএসএল জয়ের পরে আপনার মন্তব্য বিশেষ শুনিনি।
কেভিন-আইএসএল জয়টা আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল ছিল। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আমাদের যে অবিশ্বাস্য আনন্দ হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পাশাপাশি, দীর্ঘ এতগুলো বছর ট্রফি জিততে না পারার পর এই শিরোপাটি ক্লাব এবং সমর্থকদের কাছে কতটা মূল্যবান ছিল, সেটাও ছিল বিরাট একটা বিষয়। এই যাত্রাটা যেমন সুন্দর ছিল, তেমনই কঠিনও ছিল। আমরা অনেক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। প্রায় ছয় মাস কেটে গিয়েছিল, অথচ আমরা জানতাম না লিগ কবে শুরু হবে। এর ওপর গোয়ার বিরুদ্ধে সুপার কাপের ফাইনালে হারের পর আমরা ভীষণভাবে হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু যে কোনও মূল্যে আইএসএল জেতার সঙ্কল্প আমাদের মধ্যে অটুট ছিল। আমরা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছি, প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং অসাধারণভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছি। সেই দলের মধ্যে জেতার মানসিকতা ছিল প্রবল। এর কৃতিত্ব কোচিং স্টাফদেরও দিতে হবে, কারণ তাঁরা আমাদের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছিলেন এবং বুঝিয়েছিলেন যে আমরা কী অর্জন করতে পারি। যেদিন আমরা ট্রফি জিতেছিলাম, সেদিন ড্রেসিংরুমে আনন্দ আর স্বস্তির বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল। আমরা জানতাম, গত কয়েক মাসে কত ত্যাগ স্বীকার করেছি, আর সেদিন মনে হয়েছিল অবশেষে সেই পরিশ্রমের প্রতিদান পেয়েছি। তবে সবথেকে সুন্দর মুহূর্ত ছিল, সমর্থকদের চোখে এই ট্রফির আনন্দ দেখতে পাওয়া এবং তাঁদের নিখাদ আনন্দ অনুভব করা। ব্যক্তিগতভাবে, এই সাফল্য এমন একটি অর্জন, যা আমি কখনও ভুলব না। ইস্টবেঙ্গলের মতো এত বড় একটি ক্লাবের ইতিহাসের অংশ হতে পেরেছি এবং সমর্থকরা যে আমাদের চিরকাল মনে রাখবেন, এই উপলব্ধিটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

ইস্টবেঙ্গল, কলকাতা ডার্বি এবং শহর কলকাতার কথা নিশ্চয় আপনার মনে হয়? আপনাকে নিশ্চয় নস্ট্যালজিক করে তোলে?
কেভিন -গত মরশুমটা আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন ও নতুন অভিজ্ঞতার বছর ছিল। সেই সময়টা আমি খুব উপভোগ করেছি এবং ব্যক্তিগতভাবেও অনেকটা পরিণত হয়েছি। ঠিক কী কী মিস করি, তা বলা কঠিন। কারণ বর্তমানে আমি এমন একটা ভাল জায়গায় রয়েছি, যেখানে নিজের কাজ উপভোগ করছি এবং সুখে আছি। তবে ভারত, ইস্টবেঙ্গল এবং কলকাতা নিঃসন্দেহে আমার মনে অনেক সুন্দর স্মৃতি রেখে গিয়েছে। সেই স্মৃতিগুলোর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। কলকাতা ডার্বি নিয়ে আমার অনেক ভাল স্মৃতি রয়েছে। মোহনবাগানের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এবং তাদের দুর্দান্ত আক্রমণভাগের ফুটবলারদের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। এই ম্যাচগুলো ছিল একেবারেই অন্যরকম, যেগুলো এক বিশেষ আবহে খেলা হত। দুই দলই সবসময় সমর্থকদের জন্য দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিত। সল্টলেক স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল অবিশ্বাস্য! এই অভিজ্ঞতা কাউকে শুধু মুখে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। ডার্বিকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে যে আবেগ, উন্মাদনা এবং ভালবাসা কাজ করে, তা সত্যিকার অর্থে বুঝতে হলে আপনাকে নিজের চোখে সেখানে উপস্থিত থেকে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।
