Published on
:
2 min read
এক বৃদ্ধার সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এক নার্স বলে অভিযোগ। পাঁচ বছর ধরে সুপরিকল্পিতভাবে ওই ৯৯ বছর বয়সি মহিলার কাছ থেকে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৭,৭০,০০০ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা)। ওই টাকা নিয়ে দামী গাড়ি কেনার পাশাপাশি নিজের বাড়ি সংস্কার করেছেন ওই নার্স বলেও অভিযোগ। তিনি ব্যক্তিগত লাভের জন্য নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন বলে রায় দিয়েছে ব্রিটেনের আদালত। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বাতিল করা হয়েছে তাঁর নার্সিং রেজিস্ট্রেশন।
লন্ডনের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ৯৯ বছর বয়সি ওই মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ওয়েলসের ফ্লিন্টশায়ারের ‘ব্রিন ইয়ার হউল কেয়ার হোম’ (Bryn Yr Haul Care Home)-এর প্রাক্তন ডেপুটি ম্যানেজার রেবেকা বারউড। ওই মহিলার কাছ থেকে ৭ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড (ভারতীয় মূল্যে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা) মূল্যের অর্থ ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ওই অর্থ নিজের ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করেছিলেন তিনি বলে অভিযোগ। এর মধ্যে গাড়ি কেনা, ক্যাম্পারভ্যান কেনা এবং নিজের বাড়ি সংস্কারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া, এই ঘটনার সঙ্গে কসমেটিক সার্জারির পেছনে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্তে। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ট্রাইব্যুনাল জানতে পেরেছে যে ২০১৭ সালে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার পর ওই বৃদ্ধা মহিলা অসহায় হয়ে পড়েন। এর পরেই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রেবেকা বারউড (Rebecca Burwood)। তাঁকে নিজের ‘নানা’ বলে সম্বোধন করতেন রেবেকা। ওই নার্সকে বিশ্বাস করতেন মহিলা। আর তাঁর এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে বারউড, পাঁচ বছর ধরে, হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৩,৭০,০০০ পাউন্ড। তাঁর বাড়িটিরও দখল নেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল দেখতে পেয়েছে যে ওই বাড়ি সহ মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭,৭০,০০০ পাউন্ড।
অভিযোগ,বারউড ওই বয়স্ক মহিলাকে তাঁর বাড়ির মালিকানা নিজের নামে হস্তান্তর করতে রাজি করিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ওই মহিলা চলে যান একটি কেয়ার হোমে।
ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়েছে যে, এই অর্থ ঘরবাড়ির সংস্কার, বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং যানবাহনসহ নানা খরচে ব্যয় করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, বারউড দাবি করেছিলেন যে, বাড়ির আয়তন বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে যদি আবারও মহামারিজনিত লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ওই মহিলা তাঁর সঙ্গে থাকতে পারবেন।
প্রতারণার এই বিষয়টি প্রাকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে। বয়স্ক মহিলার অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হয়। এই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নর্থ ওয়েলস পুলিশের (North Wales Police) সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে এক জন নার্সও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বারউডকে টাকা-পয়সা নিয়ে আলোচনা করতে এবং ওই বয়স্ক মহিলাকে কিছু নথিপত্রে স্বাক্ষর করতে বলতে শুনেছিলেন।
যদিও ওই মহিলা শুরুতে তাঁদের বন্ধুত্ব বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবুও বিষয়টি পাঠানো হয় নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (এনএমসি)-এর কাছে।
ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বারউড আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ওই নারীর একাকীত্ব, অসহায়ত্ব এবং বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছিলেন। এর পরেই তাঁকে নার্সিং রেজিস্টার থেকে অপসারণের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর ফলে ব্রিটেনে আর নার্স হিসেবে আর কাজ করতে পারবেন না বারউড।
অন্য দিকে, ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ওই বয়স্ক মহিলার।
