হরিরামপুরে পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে শুকনো নদীতে নৌকা বাইচ
সোহেল রানা
-
প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঐতিহ্য রক্ষায় শুকনো ইছামতী নদীতে হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বাহাদুরপুর পদ্মানদী সংলগ্ন ইছামতী নদীতে বাহাদুরপুর ও ডেগিরচর গ্রামবাসী ও বাহাদুরপুর বাজার বনিক সমিতির আয়োজনে’ এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ইছামতী নদীর মোল্লাবাড়ি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে বাহাদুরপুর পদ্মাপাড় পয়েন্টে বাইচ শেষ হয়।
বিভিন্ন বয়সের মানুষ নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে বাইচ প্রত্যক্ষ করেন। বিকাল থেকে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত নৌকা ও মাল্লার বাইচ শুরু হয়ে সন্ধ্যার পর্যন্ত চলে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
বাইচে গায়ানতরী আর গায়ানবাড়ী দুটি নৌকাকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে গণমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বাইচ দেখতে জেলার ঘিওর, শিবালয়, সদর ও এলাকার লোকজনও এসেছে।
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর থেকে বাইচ দেখতে এসেছেন মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, ইছামতী নদী শুকিয়ে গেছে, তারপরও অনেক মানুষ একসাথে বাইচ দেখলাম। তবে আগে বাইচ হলে ভালো হতো।
বাল্লা ইউনিয়নের মিজানুর রহমান গাছি বলেন,
ছোট কাল থেকে ইছামতী নদীতে দুর্গা পূজার দশমীর পরের দিন বাইচ দেখছি, এবারও আসছি। তবে নদীতে পানি নাই,তারপরও অনেক মানুষ হইছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য ও বাহাদুরপুর বাজার কমিটির সভাপতি রজ্জব মন্ডল জানান, “প্রায় শত বছর আগে এখানে গ্রামবাসীর উদ্যোগে নৌকা বাইচের প্রচলন হয়। দুর্গাপূজার দশমীর পর দিন এ আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে আমরা উৎসবের আমেজে প্রতিবছর এ আয়োজন করি।” । প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি সদস্য সুভাষ ভদ্র (৭৮) বলেন, আমরা জন্মের পর থেকে ইছামতী নদীতে নৌকা বাইচ দেখে আসছি।
আয়োজক ও বাজার বনিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাহিন বলেন, এবার পূজা অক্টোবরের শেষে দশমী হওয়ায় ইছামতী নদীতে পানি নাই। তারপরও পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাইচের আয়োজন করা হয়েছে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জুবায়ের ওমর।
আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com
