আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোড়ালির চোট থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ভারতের তারকা জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া। সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ২০২৭ সালেই প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করতে চান দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী। আপাতত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এরপর ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে মন দিতে চান ভারতীয় অ্যাথলিট।
গত আগস্টে অনুশীলনের সময় গোড়ালির লিগামেন্টে চোট পান নীরজ। সেই চোটের কারণে ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস এবং ডায়মন্ড লিগ ফাইনালে অংশ নেওয়া হয়নি তাঁর। লুসান ডায়মন্ড লিগে ৮৮.০৫ মিটার থ্রো করে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পরই চোটের কারণে মরশুম শেষ হয়ে যায় তাঁর। ফলে এখন দ্রুত সুস্থ হয়ে ট্র্যাকে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
মুম্বইয়ে ২০২৬ সালের অডি গাড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন নীরজ। তিনি বলেন, “অলিম্পিক এখনও বেশ কিছুটা দূরে। ২০২৮ সালে সেই প্রতিযোগিতা। আমার চোট লেগেছিল, তবে এখন প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গোড়ালির অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। আমি বেশ ভালোভাবেই সুস্থ হয়ে উঠছি। আপাতত আগামী বছর শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এখনও পর্যন্ত যে পারফরম্যান্সগুলো করতে পারিনি, সেগুলো করে দেখাতে চাই।”
এদিকে, নীরজের অনুপস্থিতিতেও এশিয়ান গেমসে পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোয়ে ভারতের সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের নাগোয়া এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছেন যশবীর সিং এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছেন রোহিত যাদব। ৮৫.৭২ মিটার থ্রো করে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স করেন যশবীর। অন্যদিকে, রোহিতের সেরা থ্রো ছিল ৮৪.৩৫ মিটার। ৮৮.৫৫ মিটার থ্রো করে সোনা জেতেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগে।
২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ৮৮.৮৮ মিটার থ্রো করে সোনা জিতেছিলেন নীরজ। ৮৭.৫৪ মিটার থ্রো করে রুপো পেয়েছিলেন কিশোর জেনা। তবে এ বার নীরজ ও কিশোর, দু’জনের কেউই প্রতিযোগিতায় না থাকলেও ভারতীয় অ্যাথলিটরা দুটি পদক জিতে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
তরুণ অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্সে খুশি নীরজও। তাঁর কথায়, “শুধু যশবীর নয়, রোহিতও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। আগের এশিয়ান গেমসে আমরা একটি সোনা ও একটি রুপো জিতেছিলাম। এ বার কিশোর ও আমি কেউই অংশ না নিলেও ভারত দুটি পদক জিতেছে।”
তরুণ প্রতিভাদের উঠে আসাকে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের জন্য ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেছেন নীরজ। তিনি বলেন, “নতুন ও তরুণ অ্যাথলিটদের উঠে আসা অত্যন্ত ভালো লক্ষণ। এতে প্রমাণ হয়, আমাদের দেশে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। আমি ওদের ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানাই। নিজেদের যত্ন নিতে হবে, চোটমুক্ত থাকতে হবে এবং খেলাটা উপভোগ করতে হবে।”
সব মিলিয়ে, আপাতত নীরজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চোট কাটিয়ে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠা। ২০২৭ সালের মরশুমে নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি ২০২৮ সালের অলিম্পিকের জন্যও প্রস্তুতি গড়ে তুলতে চান তিনি। ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের অন্যতম সেরা তারকার প্রত্যাবর্তনের দিকে এখন তাকিয়ে ক্রীড়ামহল।
