চাকরির ইন্টারভিউ নিচ্ছিল কৃত্রিম মেধা বা এআই। কিন্তু অদ্ভুত মোড় নিল সেই ইন্টারভিউ। এক চাকরিপ্রার্থী তরুণ নিজের দক্ষতা বা কাজের অভিজ্ঞতার কথা না বলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর দিতে কাল্পনিক সব শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করেন। এর পরেই ক্ষুব্ধ হয় কৃত্রিম মেধা। পেশাদার ভঙ্গিতে কথোপকথন শুরু করা সেই ভার্চুয়াল নিয়োগকারী বিরক্তি প্রকাশ করে একপর্যায়ে সাক্ষাৎকারটি বন্ধ করে দেয়। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
‘দ্য ড্রেডফুল স্টুডিয়ো’র শেয়ার করা ভিডিয়োয় সহকারী ম্যানেজার পদের জন্য এআই-চালিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে এক যুবক চাকরিপ্রার্থীকে। নিয়োগকারীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা না করে প্রার্থী অদ্ভুত সব শব্দ উচ্চারণ করতে থাকেন। এর মাধ্যমে তিনি পরীক্ষা করে দেখছিলেন যে, তাঁর উত্তর বুঝতে না পারলে কৃত্রিম মেধা কী ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।
ভিডিয়োর শুরুতে দেখা যায়, মহিলার আদলে তৈরি সারা নামের ভার্চুয়াল নিয়োগকারী নিজের পরিচয় দেয় এবং জানায় যে, সীমিত সময়ের মধ্যে সাক্ষাৎকারটিতে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর পর সে প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করে, কেন তিনি নিজেকে ওই পদের জন্য উপযুক্ত মনে করেন। তবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা না বলে ওই ব্যক্তি অর্থহীন শব্দের সমষ্টি দিয়ে উত্তর দিতে থাকেন। সারা শীঘ্রই জানায়, সে যুবকের কথা বুঝতে পারছে না। প্রার্থী যখন কথা চালিয়ে যেতে থাকেন, তখন সারার কণ্ঠস্বর আরও কঠোর হয়ে ওঠে। সাক্ষাৎকার চলাকালীন কৃত্রিম মেধা সারা ওই প্রার্থীকে এ সব ‘খেলা’ বন্ধ করতে বলে এবং জানায়, চাকরিপ্রার্থী তার এবং সংস্থার সময় নষ্ট করছে। তার পরেও নাছোড়বান্দা প্রার্থী অদ্ভুত সব শব্দ ব্যবহার করে ইন্টারভিউ দিতে থাকে। তিনি যখন ‘জিবো’, ‘ডেবা’ ও ‘শিমা’র মতো কাল্পনিক শব্দ ব্যবহার করে কথা চালিয়ে যান, তখন সারার প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে থাকে। বিরক্ত প্রকাশ পায় তার মুখভঙ্গিতে।
একপর্যায়ে এআই ইন্টারভিউয়ার বলে, ‘‘আমি জানি না আপনার কোনও মানসিক বিপর্যয় ঘটছে, নাকি ইংরেজিতে কথা বলার ক্ষমতাই আপনার নেই।’’ তার পরেও অদ্ভুত উত্তর দেন যুবক। এর পর বিরক্তি প্রকাশ করে কৃত্রিম মেধা। এআই নিয়োগকারী বলে, ‘‘আমি এখনই এই বাছাই প্রক্রিয়াটি শেষ করছি। আপনি সম্পূর্ণ অযোগ্য। বিদায়।’’ সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। কেউ কেউ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার অনেকে ওই কৃত্রিম মেধার দেওয়া উত্তরের প্রশংসা করেছেন। এক জন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘যে সংস্থা ইন্টারভিউয়ের জন্য এআই ব্যবহার করে, সেখানে আমি কাজ করতে চাই না।’’ অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, ‘‘ভাবুন তো সংস্থাটি কতটা বাজে এবং সেখানকার পরিবেশ কতটা বিষাক্ত।’’ তবে তৃতীয় এক নেটাগরিক আবার লিখেছেন, ‘‘আসলে এখানকার এআইয়ের কার্যকারিতা দেখে আমি মুগ্ধ। চাকরিপ্রার্থীর কথা শুনে এআইও বিরক্তি প্রকাশ করেছে।’’
