প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে এ ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। অতীতে এ ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি ছিল, সেগুলো পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা যেন কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি নিয়ে জীবনযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার কাজ করবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সেবা গ্রহণ সহজ করতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টিও বিবেচনা করবে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁদের প্রতিভা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তারেক রহমান। তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
