October 12, 2026, 8:26 am
নতুন ঋণেও সেই পুরোনো সংস্কারের চাপ
Reporter Name
- Update Time : Monday, October 12, 2026
- 1 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে নতুন ঋণ সহায়তা পেতে আবারও আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের প্রথম মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন তহবিল পাওয়ার আলোচনার পাশাপাশি পুরোনো কর্মসূচির যেসব সংস্কার কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলোর প্রসঙ্গও জোরালোভাবে সামনে চলে আসছে।
চলমান আলোচনায় আর্থিক খাতের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে দাতা সংস্থাটি। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ছাড় দেওয়া, ঋণ পুনঃ তফসিল করার সুযোগ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক না করার মতো বিষয়গুলোতেও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। আইএমএফের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি কমানোর বিষয়ে কঠোর ও সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা চাওয়া হতে পারে।
বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা উন্মোচন করা এবং সেগুলোর সংকট উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করা নতুন চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান কিছু পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংস্থার পছন্দ নাও হতে পারে কারণ এগুলো অনেক সময় খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে ফেলে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে এবং আইএমএফের কাছে এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে।
ব্যাংকিং খাতের বাইরে জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং ভর্তুকি কমানোর মতো কঠিন বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে। মূল্য সংযোজন করের হার পুনর্নির্ধারণ, কর অব্যাহতির সংস্কৃতি কমানো এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ অটোমেশন চালুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জানতে চাইতে পারে সংস্থাটি। এছাড়া বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে দেওয়া ভর্তুকি কমিয়ে সরকারি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার তাগিদও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম মনে করেন, আইএমএফের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো কেবল শর্ত পূরণের জন্যই নয়, বরং দেশের নিজস্ব স্বার্থেই আর্থিক খাতের প্রকৃত সুরক্ষার জন্য জরুরি। শেষ পর্যন্ত সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পরিকল্পনা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়, তার ওপরই নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত হওয়া নির্ভর করবে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


