বাস্তবায়নাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ৮২.০৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মূল অনুমোদিত ১,৪২৮ কোটি টাকার সঙ্গে আরো ১,১৭২ কোটি টাকা যোগ করে প্রকল্পের মোট ব্যয় ২,৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার সঙ্গে শেরপুর জেলাকে যুক্ত করে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অথচ চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪২.০৯ শতাংশ। প্রকল্পের এই পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধি, নতুন কাজ অন্তর্ভুক্তি ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, ‘নেত্রকোনা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৬ জুন একনেক সভায় অনুমোদন পায়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,৪২৮ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম সংশোধনী অনুমোদিত হলেও ব্যয় ও মেয়াদ অপরিবর্তিত ছিল। এবার শেরপুরকে অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে গ্রাম সড়ক নির্মাণে। বিটুমিনাস কার্পেটিং (বিসি) পদ্ধতিতে সড়ক নির্মাণের দৈর্ঘ্য ৩৯৭.৭৭ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৮২০.৬ কিলোমিটার করার প্রস্তাব রয়েছে। এ খাতে ব্যয় ৫৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১,১৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা হবে। অর্থাৎ, বাড়তি বরাদ্দ ৬২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
উপজেলা সড়কের দৈর্ঘ্য ১৭.৯৪ থেকে বাড়িয়ে ৩২.৩৪ কিলোমিটার এবং ইউনিয়ন সড়ক ১১৯.৮১ থেকে বাড়িয়ে ১৪৯.৯ কিলোমিটার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের আওতা ২৬.৭ থেকে বাড়িয়ে ১৬০.৮ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরসিসি সড়ক নির্মাণের দৈর্ঘ্য ১২৫.৫৮ থেকে বাড়িয়ে ২০৫.২ কিলোমিটার এবং ইউনিব্লক সড়ক ২০.২২ থেকে বাড়িয়ে ২২.২২ কিলোমিটার করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ২১ হাজার ৪৫০ মিটার আরসিসি ইউ ড্রেন, ২,৭৮৪ মিটার সেতু এবং ১,৮৫১ মিটার বক্স কালভার্ট নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কার্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪২.০৯ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৪১.৬৯ শতাংশ, যার পরিমাণ ৫৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে এলজিইডি জানিয়েছে, সড়ক নেটওয়ার্কের বিচ্ছিন্ন অংশে সংযোগ স্থাপন, স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নতুন সড়ক অন্তর্ভুক্তি এবং শেরপুরকে একই প্রকল্পের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, বাস্তবায়নের এ পর্যায়ে নতুন কাজ যুক্ত করার যৌক্তিকতা এবং বর্ধিত সময়ে চলমান ও প্রস্তাবিত কার্যক্রম শেষ করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। সমাপ্ত, চলমান, বাতিল ও নতুন প্রস্তাবিত কাজের তালিকা আলাদাভাবে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) সংযুক্ত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্গঠন, এলজিইডির অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং নির্মিত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এসব পর্যবেক্ষণ ও শর্ত বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত প্রস্তাব পরবর্তী অনুমোদন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হবে। কমিশন জানিয়েছে, প্রস্তাবনাটির সার্বিক মূল্যায়ন ও শর্তাবলি প্রতিপালন সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় পেশ করা হবে।
