Published on
:
2 min read
উৎসবের আবহে ভারতের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও রাজকীয় ফ্যাশনের অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে ফের একবার শিরোনামে উঠে এলেন ইশা আম্বানি পিরামল। সম্প্রতি নবরাত্রির তৃতীয় সন্ধ্যায় তাঁকে দেখা গেল সিল্কের উপর হাতে আঁকা অনন্য এক লেহঙ্গা-চোলিতে, যাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শ্রীরাধা ও কৃষ্ণের পবিত্র ‘রাসলীলা’। কলমকারি এবং ওড়িশার বিখ্যাত পট্টচিত্র শিল্পরীতির এই বিরল যুগলবন্দি ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের ঐতিহ্যকে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রখ্যাত ডিজ়াইনার করণ তোরানি এবং ভারতের লোকশিল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই পোশাক।
পোশাকটি কেবল একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং এটি ভারতীয় হস্তশিল্পের একটি নির্দশন। ডিজ়াইনার করণ তোরানি জানিয়েছেন, প্রায় ১০ জন অভিজ্ঞ কারিগর টানা ৯০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এই পোশাক তৈরি করেছেন। সম্পূর্ণ বিষয়টাই হাতে আঁকা। খাঁটি সিল্কের ক্রিম রঙের ক্যানভাসে কলমকারি ও ওড়িশার পটচিত্র শৈলীতে রাধা ও কৃষ্ণের রাসলীলা চিত্রায়িত করা হয়েছে। লেহঙ্গার প্রতিটি কলি বা প্যানেলে ঘন নীল, লাল ও সোনালি রঙের ছোঁয়ায় দেব-দেবী ছাড়াও পদ্মফুল, ময়ূর এবং পৌরাণিক স্থাপত্যের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
পোশাকটি আরও জমকালো করতে ছবি আঁকার পাশাপাশি পোশাকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী এমব্রয়ডারি টেকনিক। জারদৌজ়ি কাজ, ফ্রেঞ্চ নট, আসল মুক্তো এবং মিরর ওয়ার্কের সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটে উঠেছে ওই পোশাকে। পোশাকশিল্পীর মতে, লেহঙ্গার নকশায় দেবীর শক্তি এবং স্নেহ—দু’টি রূপকেই শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
এই পোশাকের সঙ্গে ইশা আম্বানি বেছে নিয়েছিলেন তাঁর মা নীতা আম্বানির ব্যক্তিগত কালেকশনের কিছু দুর্লভ গয়না। আম্বানি-কন্যার গলায় ছিল বহু-স্তর বিশিষ্ট ভারী সোনা, মুক্তো ও দামি রত্ন খচিত চোকার সেট এবং তার সঙ্গে মানানসই দুল ও এনামেল করা সোনার চুড়ি। ইশার চুলে বাঁধা ছিল বিশেষ অ্যাকসেসরিজ়। কড়ি, পুঁতি, টার্সেল ও কাপড়ের ফুল দিয়ে তৈরি এক অলঙ্কার, যা ইশার ভারতীয় কারুকাজের লেহঙ্গার সঙ্গে বোহো লুক যোগ করেছিল।