Published on
:
2 min read
মেনোপজ় কেবল হট ফ্লাশ, অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা অনিদ্রার সমস্যাই নিয়ে আসে না। বহু মহিলার ক্ষেত্রেই মধ্যবয়সে কোমরের চারপাশে মেদ জমতেও দেখা দেয়। শরীরের সামগ্রিক ওজন বিশেষ না বাড়লেও জামাকাপড় হঠাৎ টাইট হতে শুরু করে। আর এর সঙ্গেই রুটিন ব্লাড টেস্টে ধরা পড়ে বাড়তি সুগার ও কোলেস্টেরল। এই পরিবর্তনগুলির মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে ঠিকই, তবে এর জন্য একমাত্র মেনোপজ় দায়ী নয়। ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস, বার্ধক্য, পেশির ক্ষয় এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন—এই সবকিছুই শরীরের ফ্যাট সঞ্চয় এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। আর এই যৌথ প্রভাবেই বিপাকীয় সমস্যা বা মেটাবলিক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে, যা অনেক সময় কোনও বড় পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত অগোচরেই থেকে যায়।
মেনোপজ়ের পরে কেন পেটের মেদ বাড়ে?
শরীরের কোথায় ফ্যাট জমা হবে, তা নির্ধারণে সাহায্য করে ইস্ট্রোজেন হরমোন। এর মাত্রা কমতে শুরু করলে মহিলাদের নিতম্ব বা উরুর বদলে পেটের চারপাশে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে। এর একটি বড় অংশ হলো ‘ভিসারাল ফ্যাট’, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে ঘিরে থাকে। ত্বকের ঠিক নীচের চর্বির বিপরীতে, ভিসারাল ফ্যাট প্রদাহ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এর অর্থ হলো শরীর কার্যকর ভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করে।
কী ভাবে সুগার ও কোলেস্টেরল বাড়ে?
পেটের চর্বি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তোলে। একইসঙ্গে, বয়স বৃদ্ধি এবং পেশির ভর হ্রাস পাওয়ার কারণে শরীর দক্ষতার সঙ্গে গ্লুকোজ় ব্যবহার করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে।
পাশাপাশি, মেনোপজ়ের কাছাকাছি সময়ে কোলেস্টেরলের মাত্রাও পরিবর্তিত হতে পারে। ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বা এলডিএল (LDL) বেড়ে যেতে পারে, এবং ট্রাইগ্লিসারাইডস বা অন্যান্য ব্লাড ফ্যাটের পরিবর্তন কার্ডিয়োভাসকুলার বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে এই পরিবর্তন সব মহিলার ক্ষেত্রে সমানভাবে ঘটে না। এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস, জিনগত কারণ, শারীরিক কার্যকলাপ এবং পূর্বের স্বাস্থ্য অবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোমর বা মেদের পরিমাণ বৃদ্ধি, রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ—এই সমস্ত লক্ষণ একত্রে ‘মেটাবলিক সিন্ড্রোম’-এর ইঙ্গিত দেয়, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
মেনোপজই কি একমাত্র কারণ?
বয়সও এই প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা পালন করে। ‘মাসল মাস’ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফলে শক্তিও কমে যায়। অপর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং পারিবারিক ইতিহাস বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে কী করণীয়?
ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস: পেশি ধরে রাখতে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এমন ব্যায়াম, নিয়মিত হাঁটা বা অ্যারোবিক্স করা জরুরি। খাবারে শাকসব্জি, গোটা শস্য, ডাল এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা উচিত। অতিরিক্ত চিনি এবং অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা অত্যন্ত আবশ্যক।
পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের প্রতিও নজর দেওয়া দরকার। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। তবে অতিরিক্ত ডায়েট করার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি জরুরি।
রুটিন চেকআপ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
মেনোপজ়ের সময় কোমর বা পেটের মাপ, রক্তচাপ, গ্লুকোজ় বা HbA1c এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করে নেওয়া খুবই উপযোগী। ডায়াবিটিস বা হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে এমন মহিলাদের আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি প্রয়োজন হতে পারে।