পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাস চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত পরিবারের দৈনন্দিন খরচ। সেই আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলছিল দুই সন্তানের পড়াশোনা, সংসারের ব্যয়ভার এবং ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার।
বাবাকে হারিয়ে দুশ্চিন্তায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী, সোহেল রানার ১৬ বছর বয়সী ছেলে মেহেদী প্রেমতলী সুখবাসিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এবার তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে বাবাকে হারিয়ে সে এখন শোকাহত। যে বাবা ছিলেন তার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান অবলম্বন, সেই বাবার অনুপস্থিতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন সোহেল রানা। প্রতিদিনের পরিশ্রমের পেছনে ছিল সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই বাবার মৃত্যুতে পরিবারটি বড় সংকটে পড়েছে। শোক সামলে মেহেদী কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে, তার শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে—এমন প্রশ্ন এখন পরিবারকে ভাবিয়ে তুলছে।
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেছেন মেয়ে মিম, সোহেল রানার ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিম সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বাবার আকস্মিক মৃত্যু তাঁর জীবনেও তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা। যে সময়ে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে পরিকল্পনা করার কথা, সেই সময়ে বাবাকে হারিয়ে তাঁকেও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
দুই সন্তানকে ঘিরেই ছিল সোহেল রানার যত আশা। তাদের লেখাপড়া শেষ করানো, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা ছিল তাঁর বড় স্বপ্ন। পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করা এই মানুষটির চলে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এক দুর্ঘটনায় থমকে গেল পরিবারের স্বপ্ন, একজন উপার্জনক্ষম মানুষের মৃত্যুতে শুধু একটি প্রাণের অবসান ঘটে না, অনেক সময় ভেঙে পড়ে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। সোহেল রানার পরিবারেও এখন সেই বাস্তবতা। তাঁর উপার্জনেই চলত সংসার। এখন তাঁকে হারিয়ে পরিবারকে একই সঙ্গে শোক, আর্থিক সংকট এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা সামলাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে মেহেদীর সামনে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময়ে তার প্রয়োজন পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ, মানসিক সমর্থন ও আর্থিক সহযোগিতা। অন্যদিকে, এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা মিমের সামনেও রয়েছে উচ্চশিক্ষা ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ।
সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিদিন পরিশ্রম করতেন সোহেল রানা। নিজের শ্রম আর উপার্জনের মধ্য দিয়ে তাদের জন্য একটি সুন্দর আগামী গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর সেই পথচলা থামিয়ে দিয়েছে। এখন বাবার রেখে যাওয়া স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখাই দুই সন্তানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
সহযোগিতা পেলে সচল থাকতে পারে দুই সন্তানের শিক্ষাজীবন, সোহেল রানার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার যে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, তা মোকাবিলায় স্বজন, স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দুই সন্তানের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের পথ সহজ করতে পারে।
একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে সংসার চালানো ও শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে গোদাগাড়ীর এই পরিবার। আর্থিক সংকটে পড়ে সোহেল রানার সন্তানদের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, সে জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ।
জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া সোহেল রানা আর কখনো ফিরবেন না। কিন্তু সন্তানদের চোখে বাবাকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্বপ্নগুলো এখনো বেঁচে আছে। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে পরিবারটি যেন অসহায় হয়ে না পড়ে, মেহেদী ও মিম যেন পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে—এখন সেটিই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
The post বড়াইগ্রামের দুর্ঘটনায় শেষ হলো সোহেলের স্বপ্ন, অনিশ্চয়তায় দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ appeared first on ভোরের চেতনা.
