অনলাইন ডেস্ক
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ নিচু এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেললাইন পানির নিচে চলে গেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে টানা দুই দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ব্যাহত হলেও মূল জেটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাজেকে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন এবং তাদের জন্য রিসোর্টে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বান্দরবানে প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় এলাকাতেও। বঙ্গোপসাগরে তিনটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। নোয়াখালীর হাতিয়ার সঙ্গে চার দিন ধরে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়া, চকরিয়া, মাতামুহুরী, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, বরগুনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা, নদীর পানি বৃদ্ধি, সড়ক ধস এবং কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
