যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও রাজপথে নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিতে ভোটারদের উৎসাহিত করতে গত শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপদে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের চতুর্থ দফার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ভোটারদের আগেই ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রতিটি ভোট গণনা নিশ্চিত করার দাবিতে জনমত গড়ে তোলা। একই দিনে
বিক্ষোভের আয়োজকদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও নির্বাচনী প্রচার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু করে ক্ষমা চায় মেটার কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন হাজার স্থানে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন শহরে একাধিক কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি চলে দিনভর। কোথাও ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার প্রচার চালানো হয়, কোথাও আয়োজন করা হয় ব্লক পার্টি ও স্থানীয় সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা। বড় সমাবেশ থেকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ একসঙ্গে মিছিল করে ভোটের ব্যালট জমা দেওয়ার নির্ধারিত বাক্সের দিকে যান। ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিক অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র এখন গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। অনেকের কাছে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এমনকি কেউ কেউ একে গণতন্ত্র রক্ষার শেষ সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ইনডিভিজিবলের সংগঠক কনি জিউং মিলস বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের গণতন্ত্র সত্যিই ঝুঁকির মুখে। দেশ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত ‘আমরা জনগণ’-এর হাতে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৯টি অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করে এমন আইন পাস হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস। এসব বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে আগাম ভোটের ওপর জোর দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী তাদের ক্যাম্পাস থেকে মিছিল বের করেন। তাদের ক্যাম্পাসের ভোটকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রায় ৪৫ মিনিট দূরের নিকটতম ভোটকেন্দ্রের দিকে হেঁটে যান।
এবারের ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বানের পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সম্ভাব্য বিতর্ক ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও সামনে এসেছে। আয়োজকদের আশঙ্কা, ট্রাম্প আবারও ভিত্তিহীনভাবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের সিদ্ধান্তে ভোটাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও আয়োজকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবলের সহনির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গে এর আগে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন, শনিবারের কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনে নাশকতা বা কারসাজির চেষ্টা হলে যাতে দ্রুত সংগঠিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো যায়, সে জন্য তাদের প্রস্তুত করা হবে।
শনিবারের বিক্ষোভ চলাকালে নো কিংস’ আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কর্মসূচির রুটের মানচিত্র, সরাসরি অবস্থানের তথ্য এবং অন্যান্য নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছিল। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ থাকায় এসব তথ্য আদান-প্রদানে বিঘ্ন ঘটে।
দেশজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত জোটের নেতারা এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেন। ভোটারদের আগাম ভোটে উৎসাহিত করার কর্মসূচি চলার সময় অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ একে সেন্সরশিপ বা মতপ্রকাশে বাধা দেওয়ার আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করেন।
তবে মেটা জানায়, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ভুলের কারণে অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে খুব বেশি ঘন ঘন পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করা হলে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটি ভুলভাবে কার্যকর হয়েছিল।
মেটার ব্যাখ্যা সত্ত্বেও আয়োজকেরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাদের বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট থেকে খুব বেশি পোস্ট করা হয়নি; বরং কয়েকটি পোস্টের পাশাপাশি হাজারো মানুষের কাছে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
রোববার ‘নো কিংস’ জোট তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজে জানায়, অ্যাকাউন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া গেছে, তবে মেটার কাছে এখনও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওনা রয়েছে। জোটটি বলে, নির্বাচনের সময় ভোটদানসংক্রান্ত যোগাযোগ সীমিত করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
