অবৈধ অভিবাসন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও অনলাইন জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১০ দিনে ২০টি দেশের মোট ৭২১ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠিয়েছে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৯৫ জন নারীও রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কম্বোডিয়ার সংবাদমাধ্যম খেমার টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর থেকে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সার সখা এবং অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল সোক ভিয়াসনার প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ইন্দোনেশিয়া, চীন, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ক্যামেরুন, জাপান, ঘানা, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, উগান্ডা, ভারত, মিয়ানমার, ফ্রান্স, লাইবেরিয়া, সুইজারল্যান্ড, উজবেকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র— এই ২০টি দেশের নাগরিকদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে অনলাইনে প্রতারণা বা স্ক্যাম চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯০ জন চীনা নাগরিককে (যাদের মধ্যে ৩ জন নারী) একটি বিশেষ ফ্লাইটে এবং ৩৫৫ জন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে (যাদের মধ্যে ৫৪ জন নারী) তেকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বাকি বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার, জালিয়াতি, পাসপোর্ট ছাড়া বসবাস, অপহরণ, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ কর্মসংস্থানের মতো নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে বহিষ্কার করা হয়।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের কঠোর নির্দেশ অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনলাইন স্ক্যাম বা আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের সুনাম রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
