কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হোসেনাবাদ স-মিলপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সেখানে বসবাস করা প্রায় ২০টি পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এসব পরিবারের সদস্য ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে বন্দি অবস্থায় ২০টি পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর আগে পদ্মা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ স-মিলপাড়ায় স্থানীয় আরজেত আলী ও তার ভাইদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন অন্তত ২০টি পরিবার। জমি বিক্রির সময় আরজেত আলী তাদের জমির পাশ দিয়ে ৬ ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। তার আশ্বাসের ভিত্তিতে পরিবারগুলো দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিল। সম্প্রতি পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় হিটু ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জমি বিক্রেতা আরজেত আলীকে জানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। পরে চলাচলের সুবিধার্থে জমি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে যাতায়াতের রাস্তা দেখিয়েই আমাদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছিল। এত দিন আমরা ওই রাস্তা ব্যবহার করেছি। এখন পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা চলাচলের সুবিধার জন্য জমি কিনে নিতে চাইলেও তারা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
আরেক ভুক্তভোগী জহুরা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা প্রায় এক মাস ধরে বাশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। বন্দী অবস্থায় শিশু, বয়স্ক মানুষ ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছি। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদেরও যাতায়াতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হিটু বলেন, আমরা জমি বায়না করেছি। বায়নাসূত্রে জমিটি দখলে নিয়েছি। বায়নানামা দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এলাকাবাসী জানান, চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও ওই পরিবারগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় এ নিয়ে বিরোধ ও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত রাস্তা খুলে দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যসহ এলাকাবাসী।
এমন পরিস্থিতিতে চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছেও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন তারা।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিয়ে থাকলে তাদের আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করব।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানুষের চলাচলের রাস্তা মৌলিক অধিকারের একটি অংশ। সেই রাস্তা বন্ধ করে জনসাধারণের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে, যা মানবাধিকারের লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
