ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হুমকি উপেক্ষা করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল আবারও শুরু করেছে সৌদি আরব। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর থেকে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম চালু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে একটি উড়োজাহাজ সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এর আগে হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার হুমকির কারণে দুই সপ্তাহ ধরে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হলে আবারও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।
দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরব এবং দেশটির সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে। এ সংঘাত একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবর, রোববার থেকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য এবং টার্মিনাল-২ জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে হুথিরা রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ হামলাটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী সতর্ক করে বলেন, বিমানবন্দরটি এখনো ‘অনিরাপদ’ এবং এটি তাদের কাছে একটি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’।
তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী সব আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করছে। কারণ, এটি অনিরাপদ এবং আমাদের বাহিনীর জন্য একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিমানবন্দরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার পরিণতির দায় সৌদি সরকারকেই বহন করতে হবে।’
এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-ইয়েমেন সামরিক জোট রোববার ভোরে জানিয়েছে, তারা রিয়াদ এলাকায় দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
