হিন্দুদের পূজায় গিয়ে পুতুলসহ নানা জিনিস বিক্রি করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন হরহামেশাই আসে। সম্প্রতি এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি আব্দুল কাইয়ুম।
তিনি জানিয়েছেন, মেলাটি যদি অমুসলিমদের ধর্মীয় মেলা হয়, তাহলে সেখানে যাওয়া বা দোকান বসানো জায়েজ নয়। কারণ, গুনাহ ও শরীয়তবিরোধী কাজে ভরা কোনো জমায়েতে যাওয়া ইসলামে নিষেধ। এমন জায়গায় যেকোনো সময় আল্লাহর আজাব নেমে আসতে পারে। আজাব এলে সেখানে থাকা সবাই তার আওতায় পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে হাদিসেও সতর্কবাণী আছে। হাদিস অনুযায়ী, কেউ কোনো জাতির সঙ্গে যোগ দিয়ে তাদের জমায়েত বড় করলে তাকে সেই জাতির একজন ধরা হয়।
জবাবে আরও বলা হয়েছে, কেউ শুধু দোকান দেওয়ার জন্য গেলেও সেখানে লোকসংখ্যা বাড়ে। এতে জমায়েতও বড় হয়। তাই দোকানদারও ওই হাদিসের সতর্কবাণীর মধ্যে পড়বেন। সেজন্য হিন্দুদের ধর্মীয় মেলায় দোকান না দেওয়াই জরুরি।
তবে মেলাটি ধর্মীয় না হয়ে ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক হলে ভিন্ন কথা। তখন সেখানে যাওয়া, দোকান দেওয়া এবং হালাল জিনিস কেনাবেচা করা জায়েজ। কিন্তু একটি শর্ত আছে। সেখানকার নাচ-গান বা অন্য কোনো গুনাহের কাজে জড়ানো যাবে না।
অমুসলিমদের মেলায় কিছু জিনিস কেনাবেচাও বৈধ বলে জানানো হয়েছে। যেমন ছবিহীন শিশুদের খেলনা এবং হালাল খাবার। জিনিসটি হালাল হলে শুধু অমুসলিমদের মেলায় বিক্রি হচ্ছে বলে সেটিকে হারাম বলার সুযোগ নেই।
তবে কিছু জিনিস বিক্রি করা জায়েজ নয়। অমুসলিমদের সরাসরি ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জিনিস এর মধ্যে পড়ে। তাদের উৎসব, বিজাতীয় সংস্কৃতি বা শরীয়তবিরোধী কাজে লাগে এমন জিনিসও একই হুকুমের মধ্যে আছে।
শেষে বলা হয়েছে, এ ধরনের মেলায় দোকান দিলে অমুসলিমদের শান-শওকত বাড়ে। তাই বৈধ জিনিস হলেও এসব জায়গায় কেনাবেচা ও ব্যবসা থেকে বিরত থাকা উচিত।