প্রবাসীদের সম্পদ ও অধিকার রক্ষায় বিভাগীয় শহরে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা
প্রবাসীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও তাদের সন্তানরা দেশে কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক আইনি পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রবাসীদের আইনি জটিলতা ও হয়রানি কমবে বলে আশা করছে সরকার।
বিভাগীয় শহরে হতে পারে বিশেষায়িত আদালত
বিশেষায়িত আদালত গঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠান। কিন্তু দেশে ফিরে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে সেই অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে কিংবা নিজেদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মুখে পড়েন। এসব বিরোধ নিষ্পত্তি করতে তাদের বছরের পর বছর বিদেশে বসে আইনজীবীদের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রে মামলার নিষ্পত্তি দেখে যাওয়াও সম্ভব হয় না। পরে তাদের উত্তরাধিকারীদের সেই মামলা চালিয়ে যেতে হয়। প্রবাসীদের এ ধরনের দুর্ভোগ কমাতেই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব এসেছে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমিকদের জন্য শ্রম আদালত ও শ্রম আইন রয়েছে। তবে প্রবাসীদের দেশে থাকা অর্থ-সম্পদ এবং অন্যান্য আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বিশেষায়িত আদালত গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভাগীয় সদর দপ্তরগুলোতে এসব আদালত গঠন করা হতে পারে। প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত হিসেবে এগুলো কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, আদালত গঠনের বিষয়ে প্রস্তাবের খসড়া তৈরির কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায় সরকার। চলতি সংসদীয় অধিবেশনে প্রস্তাবটি তোলা সম্ভব না হলেও পরবর্তী অধিবেশনে তা উপস্থাপনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রামরুর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় রামরুর ভূমিকার প্রশংসা
অনুষ্ঠানে রামরুর ভূমিকার প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ বছর ধরে সংগঠনটি শ্রমিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে। শ্রমিকদের কল্যাণ এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সংগঠনটির স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ভবিষ্যতেও রামরুর ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা আগামী ১০০ বছরে পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়ুক। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক, যাতে বাংলাদেশের শ্রমিকরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসতে পারেন এবং দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। একই সঙ্গে অন্য দেশ থেকে শ্রমিক আনার মতো সক্ষমতাও বাংলাদেশ অর্জন করুক বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
The post প্রবাসীদের সম্পদ ও অধিকার রক্ষায় বিভাগীয় শহরে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা appeared first on Rising Cumilla.
