পুজো মিটতেই ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আছড়ে পড়ার আশঙ্কা ওড়িশায়! যার প্রভাব পড়বে বাংলাতেও! অক্টোবর এবং নভেম্বর এই ২ মাস বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ থাকে। ইতিমধ্যেই ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে এবার নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা।
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, থাইল্যান্ড উপকূল থেকে ইতিমধ্যেই ঘূর্ণাবর্ত এসেছে আন্দামান সাগর এলাকায়। এই ঘূর্ণাবর্ত শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হবে। আন্দামান সাগর থেকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। এরপর এই নিম্নচাপ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও শক্তিশালী হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মডেল জিএফএস অনুযায়ী, এই সিস্টেম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে অক্টোবরের শেষ দিকে। ২৩ অক্টোবর এটি নিম্নচাপে পরিণত হবে। উত্তর-পশ্চিম দিকে আরও শক্তিশালী হয়ে এটি ২৫ শে অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এই মডেল অনুযায়ী ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা ওড়িশাতে। ২৭ শে অক্টোবর রাতের দিকে ভুবনেশ্বরের কাছাকাছি এটি স্থলভাগে ঢুকতে পারে।
ইউরোপিয়ান মডেল ইসিএমডব্লিউএফও ঘূর্ণিঝড়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে। যদিও এই মডেল অনুযায়ী ২৪ শে অক্টোবর নিম্নচাপ তৈরি হবে। ২৬ শে অক্টোবর সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ২৮ শে অক্টোবর অপরাহ্নে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া সংলগ্ন এলাকায় এটি স্থলভাগে ঢুকতে পারে। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেল অক্টোবরের শেষে ঝড়ের ইঙ্গিত দিলেও এখনও পর্যন্ত শক্তিশালী নিম্নচাপের কথাই বলছে ভারতের মৌসম ভবন।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরান) দেওয়া নামের একটি পূর্বনির্ধারিত ক্রম তালিকা থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী নামকরণ করা হয় ঘূর্ণিঝড়ের। যখন কোনও নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে সাইক্লোনিক স্টর্মের রূপ নেয়, তখন এই তালিকা থেকে নাম ব্যবহার করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। বাংলাদেশের দেওয়া এই নাম। যার অর্থ ‘সমুদ্র’ বা ‘সাগর’।
