ভদ্রকালী মন্দিরের মা।ছবি: এই সময়
Published on
:
2 min read
আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। এর পরেই কালীপুজো। সেজে উঠবে শক্তিপীঠগুলি, সাজবে বিভিন্ন কালীমন্দির। তার আগেই হুগলির বৈদ্যবাটিতে ভদ্রকালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। শনিবার রাতে কালীর গায়ের গয়না থেকে মুকুট, হাতের খাঁড়া এমনকী মুণ্ডমালা পর্যন্ত চুরির অভিযোগ। মন্দিরের সেবাইত থেকে এলাকার লোকজন, কপালে হাত সকলের। এত বছরের মন্দির, কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি বলেই জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এত বড় একটি মন্দিরে কোনও সিসিক্যামেরা নেই?
বৈদ্যবাটির ১০ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন ভদ্রকালী মন্দির। শনিবার রাতে সেখানেই ভয়াবহ চুরির ঘটনা। মন্দির চত্বরে থাকা রাধাবল্লভ ও ভদ্রকালী বিগ্রহের অলঙ্কার এবং প্রণামী বাক্সের প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয় চোর। খবর পেয়ে রবিবার সকালে শ্রীরামপুর থানার অন্তর্গত শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশ পৌঁছয়।
এক নজরে
শনিবার রাতে হুগলির বৈদ্যবাটি ১০ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন ভদ্রকালী মন্দিরে এই চুরি হয়।
বিগ্রহের গায়ের গয়না, মুকুট, হাতের খাঁড়া, প্রণামী বাক্সের আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা চুরি গিয়েছে।
রাতের অন্ধকারে মন্দিরের পিছনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা।
তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে কোনও সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খবর পেয়ে রবিবার সকালে শ্রীরামপুর থানার অন্তর্গত শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
মন্দিরটি তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত। মন্দিরে একজন পুরোহিত থাকেন। রাতেও ছিলেন তিনি তবে কিছু টের পাননি। তিনি জানান, রাত ১১টা নাগাদ তিনি শুয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে মন্দিরের পিছনের জানালার গ্রিল কেটে মন্দিরে ঢোকে চোর।
সামনেই ওষুধের দোকান অরূপ মুখোপাধ্যায়ের। এলাকারই বাসিন্দা তিনি। এই ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার অন্যান্য বাসিন্দার মতো তিনিও আসেন। বলেন, ‘মায়ের যে রূপ তা একেবারে বদলে গিয়েছে। হাতের খাঁড়া, গয়না, দানবাক্স কিছুই নেই। ছোট থেকে বড় হয়েছি এই এলাকায়। কোনও দিন এ রকম কিছু দেখিনি। প্রতি পূর্ণিমায় এখন তারকেশ্বর যাওয়ার জন্য লোকজন আসেন। একটু নজরদারিও বাড়ানো দরকার। কেন যে ট্রাস্টি বোর্ড এত বড় মন্দিরে একটা সিসিক্যামেরার ব্যবস্থা করেনি, জানি না।’ বিগ্রহের মাথার মুকুট খুলে নিয়ে মাথায় আবার ঘোমটা টেনে দিয়ে গিয়েছে চোর!