আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটির রাজধানী তিরানায় টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সহিংস বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন রামা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে পুনরায় শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন এবং রামা, পদত্যাগ করুন বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভিড় হটাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পরবর্তীতে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে।
বিক্ষোভের আশঙ্কায় শহরের কেন্দ্রস্থলের দোকানপাট ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দরজা-জানালা ধাতব শাটার দিয়ে সুরক্ষিত করেছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা যাতে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে না পারে, সেজন্য সিটি করপোরেশনের কর্মীরা রাস্তার পেভিং স্টোনগুলো আগেভাগেই তুলে ফেলছেন।
আলবেনীয় সংবাদমাধ্যম টিভি ক্ল্যানের সাংবাদিক লিনদিতা কারাদাকু আল জাজিরাকে জানান, এই অস্থিরতা কতদূর গড়াবে বা কতদিন চলবে তা বলা কঠিন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রামা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। অন্যদিকে আন্দোলনরত তরুণ সমাজও সহজে দমে না যাওয়ার বিষয়ে অনড়। এই মুহূর্তে আগামীকাল কী হতে যাচ্ছে তা কারো কাছেই স্পষ্ট নয়।’
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হয়ে রামা বলেন, ‘সরকার কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি।’ তবে চলমান এই অস্থিরতা আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আলবেনীয়দের খুব স্পষ্টভাবে চিন্তা করা দরকার তারা কি এই সহিংসতা চায়, নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ চায়? উল্লেখ্য, আলবেনিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার আশা করছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে
- মানসম্মত শিক্ষা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি
- কথিত দুর্নীতি বন্ধ করা
- প্রধানমন্ত্রী এডি রামার অবিলম্বে পদত্যাগ
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিরানার বিক্ষোভকারীরা মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের এলাকা ও পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এই সহিংস আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, তার সরকার দুর্নীতি দমনে সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।
রামা আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি শুনতে এবং শিক্ষার খরচ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি প্রস্তুত, তবে যারা সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
তিরানার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেন্টর নাজারকো বলেন, ‘রামা সমস্যার গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, কোনো সমাধান খুঁজে পাননি এবং অনেক সময় নষ্ট করেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, তার বৈধতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সরকার ও জনগণের মাঝে এখন পুলিশ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর এই পুলিশ বাহিনীও বিক্ষোভ সামলাতে অপ্রশিক্ষিত, স্বল্প বেতনভোগী এবং এদের একটি অংশ দুর্নীতি ও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সূত্র: আল জাজিরা
তামান্না রুপা/
