আজকাল ওয়েবডেস্ক: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বাঞ্চল কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর লিজ় নেওয়া কয়লাখনি থেকে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ কয়লা পাচারের তদন্তে ১৩৬.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০০২ সালের প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনুপ মাজি ওরফে লালার নেতৃত্বে একটি বেআইনি সিন্ডিকেট চলতো।
ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সিন্ডিকেট অবৈধভাবে খনি থেকে কয়লা তোলা এবং বিপুল পরিমাণ কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে সেই কয়লা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারখানায় নগদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হত বলে অভিযোগ। এই অবৈধ কারবারে স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকদের সক্রিয় সহযোগিতা ছিল বলেও তদন্তে অভিযোগ উঠেছে।
অবৈধ কয়লা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের উৎস ও মালিকানা আড়াল করতে অনুপ মাজির মালিকানাধীন একাধিক ভুয়ো সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল বলে ইডি-র দাবি। ওই সংস্থাগুলি অনুপ মাজির আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুরুপদ মাজির নামে পরিচালিত হত। কয়লা বিক্রি থেকে পাওয়া নগদ টাকা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে হিসাবের কারসাজি করে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হত। এর ফলে অর্থের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন রাখা সম্ভব হত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার কাণ্ডের এই বিপুল পরিমাণ টাকা অনুপ মাজির মালিকানাধীন বিভিন্ন রিসর্টে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এবারের অস্থায়ী বাজেয়াপ্তির তালিকায় রয়েছে দুটি হোটেল-কাম-রিসর্ট—পুরুলিয়ার ‘গড় পাঞ্চকোট ইকো ট্যুরিজম’ এবং বাঁকুড়ার ‘বিহারীনাথ ইকো ট্যুরিজম’।
এ ছাড়াও কলকাতার দুটি সম্পত্তি, ভুয়ো সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থ এবং মাজি পরিবারের সদস্যদের হাতে থাকা শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ইডি জানিয়েছে, এর আগে একই মামলায় একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মোট ৬৭৮.৬৪ কোটি টাকার বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এবার নতুন করে আরও ১৩৬.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ায় এই মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ৮১৫.০৮ কোটি টাকা।
কয়লা পাচারের এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক ও পাচার চক্রের বিভিন্ন স্তর খতিয়ে দেখে, সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা এবং খনি থেকে তোলা অবৈধ কয়লা পাচার থেকে আসা কালো টাকা কে সাদা করার কাজে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির সন্ধান চালাচ্ছে ইডি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, কয়লা খনি থেকে তোলা অবৈধ কয়লা ও বিপুল পরিমাণ টাকার বেআইনি বিনিয়োগ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছেন। বিশেষত, যেখানে সরকারি প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মামলায় তদন্ত এখনও চলছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এর পেছনে আরও কারা কারা যুক্ত আছে তাদের খুঁজে বার করা, বলেই জানিয়েছে ইডি।
