আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার সর্বত্র যখন দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়েছে, তখন উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের খাদিমপুর গ্রামের বাসিন্দারা এখনও দেবীর উপস্থিতিতে আনন্দোৎসবে মেতে আছেন। খাদিমপুরে এখন শোনা যাচ্ছে ঢাকের আওয়াজ। যখন অন্য সব জায়গায় দুর্গাপুজো শেষ হয়ে গিয়েছে, তখন থেকেই এই পুরো গ্রাম ‘বালাই চণ্ডী’ রূপে দেবী দুর্গাকে পুজো করে আসছে।
চার হাতবিশিষ্ট দেবী বালাই চণ্ডীর হাতে কোনও অস্ত্র নেই। নেই মহিষাসুর বা মহিষের কোনও অস্তিত্ব।
হেমতাবাদের কমলবাড়ি হাটের কাছে, রায়গঞ্জ ব্লকের কমলবাড়ি পঞ্চায়েত এলাকার এই গ্রামে, একটি প্রাচীন গাছের নীচে ইটের দেয়াল ও টিনের চালের ছোট মন্দিরে দেবী বালাই চণ্ডীর পুজো করা হয়। এই মন্দির গড়ে উঠেছে প্রায় চার বিঘা জমির ওপর।
এ বছর দশমী ছিল বুধবার। সেই রাতেই এই পুজো শুরু হয়েছে। দেবীকে সোনা ও রুপার গয়নায় সাজানো হয়। দশমীর রাতে দেবীর মূল পুজো হলেও, এখানে পুজো চলে টানা এক সপ্তাহ। সেই সঙ্গে চলে মেলা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
পুজো কমিটির কর্মকর্তা অনিল বর্মন বলেন, “এখানে দেবী দুর্গাকে ‘মা চণ্ডী’ রূপে পুজো করা হয়। দেবীর সঙ্গে এখানে কোনও মহিষাসুর বা অন্য কোনও অসুর নেই। এছাড়া, দুর্গার দশ হাতের পরিবর্তে এখানে চণ্ডীর চারটি হাত রয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকেন তাঁর সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। দেবী দুর্গার এই অনন্য রূপ দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ভিড় করেন।”
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মাধব বর্মন জানান, খাদিমপুর গ্রামে দেবী বালাই চণ্ডীর পুজো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে। তিনি বলেন, “পুজো সময় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা, এমনকি মালদহ ও বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আমাদের গ্রামে আসেন। এটি যেন দুর্গাপুজোরই এক বর্ধিত উৎসব।”
