তাল তাল সোনা কিনে গোপনে জঙ্গলে পুঁতে রেখে আসছেন ভাইকিংয়ের বংশধরেরা! তার পরই যা ঘটছে...
কীসের টানে জঙ্গলে সোনা রেখে আসছেন বিনিয়োগকারীরা? কোন ভরসায় ভাবছেন, সেই সোনা সেখানে নিরাপদে ফুলেফেঁপে উঠবে? বাস্তবে কি তেমনটাই ঘটছে?
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৫
০১ / ১৪
সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে তালিকার উপরের দিকেই স্থান থাকে সোনার। দুঃসময়ের জন্য কাঞ্চনে বিনিয়োগ করাকেই শ্রেয় বলে মনে করে রাষ্ট্রশক্তি থেকে শুরু করে আমজনতা। আর, এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই একদল প্রতারক নিঃস্ব করে ছেড়েছে নিরীহ বিনিয়োগকারীদের।
০২ / ১৪
নরওয়েতে একদল প্রতারকের উদ্ভব ঘটেছে। প্রতারণার অভিনব কৌশল খুঁজে বার করেছে তারা। আমজনতাকে সোনা কিনে তা জঙ্গলে রেখে আসার জন্য প্ররোচিত করছে এই দলের সদস্যরা। প্রথমে প্রতারকরা ফোন কল বা অনলাইনে যোগাযোগ করে সাধারণ মানুষকে বিপুল পরিমাণ সোনা কিনতে প্রলুব্ধ করছে। তারা যুক্তি সাজাচ্ছে, ভবিষ্যতে সোনার দাম চড়চড় করে বাড়বে। ফলে, এই বিনিয়োগ থেকে মোটা অঙ্কের লাভ করা সম্ভব হবে।
০৩ / ১৪
তারা বিনিয়োগকারীদের এমনও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে জঙ্গলে সোনা পুঁতে রেখে এলে সেটি নিরাপদে থাকবে। এ ছা়ড়াও এর মূল্য বাড়বে বলে আশ্বাস দিচ্ছে তারা। হলুদ ধাতু থেকে চড়া লাভের আশায় এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আর, তাতেই হচ্ছে সাড়ে সর্বনাশ।
০৪ / ১৪
প্রকাশ্যে আসা ঘটনাক্রম থেকে জানা গিয়েছে, প্রথমে বিনিয়োগকারীদের সোনা কিনে নির্দিষ্ট জঙ্গলে রেখে আসতে বলে প্রতারকেরা। তারা আশ্বাস দেয়, সেখানে সোনা নিরাপদে থাকবে। সময়ের সঙ্গে তার দামও বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে, এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগীরা তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে ধনে-প্রাণে মারা পড়েন। কারণ, পরে তাঁরা দেখেন, সমস্ত জমানো সোনা হাপিশ হয়ে গিয়েছে!
০৫ / ১৪
জানা গিয়েছে, প্রতারকেরা গ্রাহকদের বুঝিয়েছিল, সোনা নিরাপদে রাখার জন্য তারা একটি বিশেষ দল বা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সেই মতো পূর্বপরিকল্পিত কোনও একটি নির্জন জায়গায় বা জঙ্গলে সোনা রেখে আসতে বলত তারা। এই সম্পদ নিরাপদে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, এমন একটি বিশ্বাসও গড়ে তুলতে সক্ষম হয় প্রতারক দলটি।
০৬ / ১৪
অনেক সময় প্রতারকরা সামনাসামনি দেখা করার কথা বলে শেষ মুহূর্তে ফাঁকি দিয়ে গ্রাহককে তাঁর সোনা কোনও উদ্যান বা জঙ্গলে রেখে আসতে বলে। সহজ সরল বহু মানুষ তাদের কথা বিশ্বাস করে জঙ্গলেই লাখ লাখ টাকার সোনা বা সোনার বাট ফেলে আসেন। আর, তার পরই প্রতারকরা তা তুলে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
০৭ / ১৪
এই প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে নরওয়ে সরকার। দেশটির আর্থিক পরিষেবা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ফিন্যান্স নরগে’ সাধারণ মানুষকে প্রতারকদের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
০৮ / ১৪
হঠাৎ কানাঘুষো ছড়িয়ে পড়ে, দেশ জুড়ে বেশ কয়েক জন ব্যাঙ্ক গ্রাহক তাঁদের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নির্দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সোনা কিনেছেন। এর পরই এই ধরনের প্রতারণা থেকে গ্রাহকদের রক্ষা করতে কোমর বেঁধে মাঠে নামে সে দেশের ব্যাঙ্কিং সংস্থাগুলিও। এই ধরনের ‘সোনালি প্রতারণা’র কৌশল চেনা এবং প্রতারকদের ফাঁদ এড়ানোর উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা।
০৯ / ১৪
‘ফিন্যান্স নরগে’-এর তথ্য অনুযায়ী, অসলো এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্গেন-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে এমন প্রতারণার শিকার হয়ে বহু গ্রাহক তাঁদের বিরাট অঙ্কের সঞ্চয় হারিয়েছেন। তাই, ব্যাঙ্কগুলি এখন নরওয়ের জনগণকে এই ধরনের যে কোনও ‘সোনার নিরাপদ বিনিয়োগ’ প্রস্তাব সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।
১০ / ১৪
ফিন্যান্স নরওয়ের জালিয়াতি-বিরোধী কার্যক্রমের পরিচালক গ্রাই নেরগার্ড জানিয়েছেন, প্রতারণার প্রথম ঘটনাগুলির খবর পাওয়া যায় গত বছরের বসন্তকালে। এর পর থেকে রাজধানী অসলো, তার আশপাশের শহরগুলি এবং নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ শহর বার্গেনেও একই ধরনের প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে।
১১ / ১৪
তবে, এই প্রতারণার ঘটনাগুলিতে মোট কত পরিমাণ অর্থ বা সোনা খোয়া গিয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ‘ফিন্যান্স নরগে’। গোটা ঘটনায় জনমানসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আমজনতাকে সোনা কিনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর পর সেই সোনা নির্দিষ্ট স্থানে অরক্ষিত অবস্থায় রেখে আসতে বলা হচ্ছে, যার ফলে তা চুরি হয়ে যাচ্ছে।
১২ / ১৪
সোনার এই কেলেঙ্কারিটি এমন তিন ধরনের আর্থিক জালিয়াতির মধ্যে অন্যতম, যেগুলি সম্পর্কে নরওয়ের ব্যাঙ্কগুলি তাদের গ্রাহকদের সতর্ক করছে। দেশটিতে আর্থিক জালিয়াতি এখনও বড় উদ্বেগের কারণ। প্রতি বছর এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারাচ্ছেন গ্রাহকেরা, যা নিয়ে শঙ্কিত ব্যাঙ্কগুলি।
১৩ / ১৪
ফিন্যান্স নরগে-র তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নরওয়ের ব্যাঙ্ক ও তাদের গ্রাহকেরা আর্থিক জালিয়াতির কারণে সম্মিলিত ভাবে ৯৬.২ কোটি ক্রোনার, অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার হারিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, নানা কৌশলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ প্রতারকেরা কুক্ষিগত করে ফেলেছে।
১৪ / ১৪
এই ফাঁদ এড়াতে আর্থিক পরিষেবা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বার বার সতর্ক করছে ভাইকিংদের দেশটির জনসাধারণকে। সম্পদ সংরক্ষণের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে সোনার পরিচিতি থাকলেও, সোনাকে কেন্দ্র করে করা প্রতিটি বিনিয়োগের প্রস্তাব বৈধ নয় বলে জানিয়েছে ফিন্যান্স নরগে। এই প্রতারণার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিপুল লাভের আশায় সোনা কিনতে গিয়ে প্রতারকেরা শেষ পর্যন্ত সেই সম্পদই হারিয়ে ফেলছেন।
সব ছবি: সংগৃহীত।
পরবর্তী গ্যালারি
‘মেরা নাম জোকার’ থেকে ‘সিলসিলা’, ‘স্বদেশ’! বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও পরে জনপ্রিয়তা পায় যে সব হিন্দি ছবি
সময়ের সঙ্গে বদলেছে দর্শকের পছন্দ। প্রথমে বক্সঅফিসে ব্যর্থ হলেও পরবর্তীকালে কোনও কোনও ছবি পেয়েছে নতুন করে জনপ্রিয়তা, কোনওটি হয়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে অতি প্রিয়।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৭
০১ / ১৬
প্রতি বছরই একাধিক ছবি মুক্তি পায় বড়পর্দায়। কোনও ছবি মনে দাগ কাটে, কোনও ছবির নাম কিছু দিনের মধ্যেই ভুলে যান দর্শক। আবার কিছু ছবি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও পরবর্তীকালে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি। কোনও ছবি পেয়েছে নতুন করে জনপ্রিয়তা, কোনওটি হয়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের প্রিয়। রইল বলিউডের এমনই কিছু বাছাই ছবির গল্প, যা প্রথমে ব্যর্থ হলেও পরে জায়গা করে নিয়েছে সাফল্যের তালিকায়।
০২ / ১৬
‘কাগজ় কে ফুল’ (১৯৫৯): গুরু দত্তের পরিচালনায় তৈরি এই ছবি মুক্তির সময়ে বক্সঅফিসে ব্যর্থ হয়েছিল। এক চিত্রপরিচালকের উত্থান-পতন, নিঃসঙ্গতা ও ব্যক্তিগত জীবনের যন্ত্রণা নিয়ে তৈরি ছবিটি তখন দর্শকের মন জয় করতে পারেনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে ছবিটির মূল্যায়ন। সিনেমাটোগ্রাফি, আলো-ছায়ার ব্যবহার এবং বিষণ্ণ কাহিনির জন্য এখন এটি হিন্দি সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘কাল্ট’ ছবি হিসাবে বিবেচিত হয়।
০৩ / ১৬
‘মেরা নাম জোকার’ (১৯৭০): রাজ কপূরের স্বপ্নের ছবি ‘মেরা নাম জোকার’। মুক্তির সময়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দীর্ঘ ছবি এবং জটিল আবেগের কাহিনি দর্শকের একাংশকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। অথচ সার্কাসের এক জোকারের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণা, প্রেম ও একাকিত্বের গল্প পরবর্তী সময়ে নতুন করে সমাদৃত হয়। আজ ছবিটিকে রাজ কপূরের অন্যতম বড় মাপের কাজ হিসেবে দেখা হয়।
০৪ / ১৬
‘সিলসিলা’ (১৯৮১): অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন ও রেখা অভিনীত ‘সিলসিলা’র নাম শোনেননি, এমন সিনেপ্রেমী হয়তো খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু, মুক্তির সময়ে বক্সঅফিসে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়ে ছবিটি। বিবাহিত সম্পর্ক, পুরনো প্রেম এবং আবেগের টানাপড়েন নিয়ে তৈরি ছবিটি সেই সময়ের দর্শকের কাছে বিতর্কিতও ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ছবিটির গান, অভিনয় এবং সর্বোপরি গল্পের সঙ্গে ওই তিন অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্কের তথাকথিত টানাপড়েন মিলে যাওয়া— এ সবের কারণেই আকর্ষণ বেড়েছে ছবিটির। এখনও হিন্দি সিনেমার আলোচিত রোম্যান্টিক ছবিগুলির অন্যতম এটি।
০৫ / ১৬
‘জানে ভী দো ইয়ারো’ (১৯৮৩): দুর্নীতি, সংবাদমাধ্যমের ভণ্ডামি এবং ক্ষমতাবানদের অসততা নিয়ে তৈরি কুন্দন শাহ পরিচালিত এই ছবি মুক্তির সময়ে বক্সঅফিসে সাফল্য পায়নি। বলা হয়, দর্শক এই ছবির সঙ্গে সে ভাবে যোগ স্থাপন করতে পারেননি। কিন্তু তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, অদ্ভুত কৌতুক এবং বিখ্যাত কিছু দৃশ্য ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে ছবিটির রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা ‘স্যাটায়ার’ হিসাবে পরিচিত এটি।
০৬ / ১৬
‘অগ্নিপথ’ (১৯৯০): অমিতাভ বচ্চন অভিনীত বিজয় দীননাথ চৌহান চরিত্রটি আজও দর্শকের স্মৃতিতে দাপটের সঙ্গে উজ্জ্বল। অথচ মুক্তির সময়ে মুকুল এস আনন্দ পরিচালিত ‘অগ্নিপথ’ বক্সঅফিসে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল। ছবির অন্ধকার আবহ, হিংসাত্মক কাহিনি এবং অমিতাভের স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন তখন সব দর্শকের পছন্দ হয়নি। পরে টেলিভিশনে ছবিটি জনপ্রিয়তা পায়। অমিতাভের অভিনয় ও ছবির সংলাপ একে ‘কাল্ট’ মর্যাদা এনে দেয়।
০৭ / ১৬
‘আন্দাজ় অপনা অপনা’ (১৯৯৪): আমির খান ও সলমন খান অভিনীত এই কমেডি ছবিটি মুক্তির সময়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। কিন্তু অমর-প্রেমের কাণ্ডকারখানা, ক্রাইম মাস্টার গোগোর সংলাপ এবং অদ্ভুত হাস্যরস ধীরে ধীরে দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়। টেলিভিশনে বার বার সম্প্রচারিত হওয়ার সুবাদে ছবিটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এখন এই ছবি এমন এক ‘কাল্ট কমেডি’, যার সংলাপ এখনও সমাজমাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়।
০৮ / ১৬
‘লমহে’ (১৯৯১): যশ চোপড়া পরিচালিত ‘লমহে’ ছিল সময়ের তুলনায় অনেকটাই ব্যতিক্রমী এক প্রেমের গল্প। অনিল কপূর ও শ্রীদেবী অভিনীত ছবিতে বয়স, প্রেম ও সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছিল। বিষয়বস্তুর কারণে মুক্তির সময়ে ছবিটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। তবে পরবর্তী সময়ে ছবিটির সাহসী কাহিনি, শ্রীদেবীর দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় এবং গান প্রশংসিত হয়েছে। ছবিটিকে এখন হিন্দি সিনেমার অন্যতম সাহসী রোম্যান্টিক ছবি হিসেবে মনে করা হয়।
০৯ / ১৬
‘স্বদেশ’ (২০০৪): শাহরুখ খানকে সাধারণত রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবেই দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন দর্শক। ‘স্বদেশ’ ছবিতে সেই পরিচিত ছক ভেঙে এক প্রবাসী বিজ্ঞানীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। আশুতোষ গোয়ারীকরের পরিচালনায় তৈরি ছবিটি মুক্তির সময়ে বক্সঅফিসে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু নিজের শিকড়, গ্রামোন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গল্প পরবর্তী সময়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। শাহরুখের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবেও ছবিটি আলোচিত।
১০ / ১৬
‘লক্ষ্য’ (২০০৪): ফরহান আখতারের পরিচালনায় এই ছবিতে হৃতিক রোশন অভিনয় করেছিলেন লক্ষ্যহীন এক তরুণের চরিত্রে, যে পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পায়। মুক্তির সময়ে ছবিটি বক্সঅফিসে বড় সাফল্য পায়নি। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের আত্মপরিচয়, দায়িত্ববোধ এবং জীবনের লক্ষ্য খুঁজে নেওয়ার গল্প ধীরে ধীরে দর্শকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ছবির গান এবং হৃতিকের অভিনয়ও জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।
১১ / ১৬
‘তুম্বা়ড়’ (২০১৮): লোভ, অভিশাপ এবং লোককথার মিশেলে তৈরি ছবিটি মুক্তির সময়ে বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। রাহী অনিল বরভে পরিচালিত এই ছবির আঁধারে মোড়া প্রেক্ষাপট, অনন্য দৃশ্যায়ন এবং পৌরাণিক কল্পনার ব্যবহার দর্শকের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। টেলিভিশন ও ওটিটিতে নতুন করে দর্শক ছবিটি আবিষ্কার করেন। ভারতীয় হরর-ফ্যান্টাসি ছবির ক্ষেত্রে ‘তুম্বাড়’ এখন অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম।
১২ / ১৬
‘রকেট সিং: সেলসম্যান অফ দ্য ইয়ার’ (২০০৯): রণবীর কপূর অভিনীত এই ছবিতে দেখা যায় এক তরুণ বিক্রয়কর্মীকে, যে কর্পোরেট দুনিয়ার অনৈতিকতার মধ্যে থেকেও নিজের মূল্যবোধ ধরে রাখার চেষ্টা করে। মুক্তির সময়ে ছবিটি বক্সঅফিসে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের সততা, ব্যবসার নীতি এবং সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের গল্প পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে তরুণ দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ‘রকেট সিং’ রণবীরের কেরিয়ারের অন্যতম ‘আন্ডাররেটেড’ ছবি হিসেবে পরিচিত।
১৩ / ১৬
‘ওয়ে লাকি! লাকি ওয়ে!’ (২০০৮): দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবি এক চোরের জীবনের গল্পের মাধ্যমে সমাজের শ্রেণিবিভাজন ও ভোগবাদকে তুলে ধরেছিল। অভয় দেওল অভিনীত ছবিটি মুক্তির সময়ে একেবারেই সাফল্য পায়নি। কিন্তু এর ব্যতিক্রমী গল্প, সূক্ষ্ম কৌতুক এবং চরিত্রগুলির বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা পরবর্তী সময়ে প্রশংসা পায়। টেলিভিশন ও ওটিটির মাধ্যমে ছবিটি নতুন দর্শকও খুঁজে পায়।
১৪ / ১৬
‘তমাশা’ (২০১৫): রণবীর কপূর ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘তমাশা’ মুক্তির সময়ে বক্সঅফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। রীতিমতো খারাপ রিভিউ পায় ইমতিয়াজ় আলি পরিচালিত ছবিটি। এই ছবিতে এক তরুণের নিজের পরিচয় খুঁজে নেওয়া, সমাজের প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নের দ্বন্দ্ব উঠে এসেছিল। প্রথমে ছবিটির কাহিনি নিয়ে দর্শকের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, পরে অনেকেই এর বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান। এ আর রহমানের সঙ্গীতও ছবিটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
১৫ / ১৬
‘লৈলা মজনূ’ (২০১৮): ইমতিয়াজ় আলির গল্প অবলম্বনে সাজিদ আলি পরিচালিত ‘লৈলা মজনূ’ ছবিটিও মুক্তির সময়ে বক্সঅফিসে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু কাশ্মীরের প্রেক্ষাপটে তৈরি প্রেম, বিচ্ছেদ ও উন্মাদনার গল্প ধীরে ধীরে তরুণ দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ছবির গান এবং অবিনাশ তিওয়ারি ও তৃপ্তি ডিমরীর অভিনয় নতুন করে প্রশংসিত হয়। পুনরায় প্রদর্শনের সময় ছবিটি বিপুল পরিমাণে দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে।
১৬ / ১৬
বক্সঅফিসের সাফল্যই যে কোনও ছবির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, এই ছবিগুলি তার প্রমাণ। কোনও কোনও গল্প নিজের সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে— দর্শকের কাছে সেই গল্পকে পৌঁছোতে কখনও কখনও অপেক্ষা করতে হয় কয়েক বছর, কখনও কয়েক দশক।
