কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব করায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। কমিটিতে সরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন পদবঞ্চিত নেতারা। এ ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান ও সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ স্বাক্ষরিত ২০ সদস্যের এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে আহ্বায়ক এবং পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষক, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক ও সাংবাদিক শাহীনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তহিদুল হককে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সরকারি চাকরিবিধি অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি তাদের।
নতুন কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির এই কমিটিকে কোনোভাবেই দলীয় কমিটি বলা যাবে না। এটি মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কমিটি।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধিতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব অনিয়ম করে তাদের কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ড ও কেন্দ্রীয় নেতাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দলের পদ গ্রহণ, দলীয় সভা-মিছিল কিংবা নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে।
তিনি বলেন, ফুলবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের রাজনৈতিক দল বা কমিটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে, পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
