‘দেহ পট সনে নট সকলই হারায়।’ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মনের ভিতরে নানা ভাঙচুর চলতে থাকে। ধীরে ধীরে মানুষ বুড়ো হয়। কিন্তু এই ‘পালটানো সময়ে’ সবই যেন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশের মতো অসুখের প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে এবার জানা গেল এমন এক এআই টুলের কথা যার মানুষের কালানুক্রমিক বয়স বলে দিতে পারে বলে দাবি। অর্থাৎ শারীরিক বয়স নয়, মনের বয়স।
‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এক গবেষণাপত্র। প্রায় ৩,০০০ স্পেনীয় ভাষাভাষী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপরে চালানো হয়েছিল পরীক্ষা। আর তারই ভিত্তিতে জানানো হয়েছে, ‘স্পিচ ক্লক’ কাজ করে কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে। এই ধরনের টুল কিন্তু নতুন নয়। তবু এই এআই টুলটি আলাদা তার কাজ করার প্রক্রিয়ায়। মস্তিষ্ক স্ক্যান করে কিংবা রক্ত পরীক্ষা করেও এমন বিশ্লেষণ করা যায়। কিন্তু তা ব্যয়সাপেক্ষ। এই টুল ব্যবহার করেছে আর্জেন্টিনা, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো এবং পেরুর ২,৯০০ জনেরও বেশি স্প্যানিশের কণ্ঠস্বর। বয়ঃসীমা ১৮ থেকে ৮৮। দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে দেড় হাজার জনের কালানুক্রমিক বয়সে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বাকিদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির সামান্য সমস্যা এমনকী অ্যালঝাইমার্স বা ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।
কীভাবে কাজ করেছিল এই টুল? অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে সাতটি কাজ করতে হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল একটি অ্যানিমেটেড ভিডিওর বর্ণনা দেওয়া, ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে যথাসম্ভব বেশি শব্দ, শাকসবজি বা প্রাণীর নাম বলা এবং একটি ছোট গল্প শোনার পরপরই তা পুনরায় বলা, আবার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর সেটি আবারও বর্ণনা করা। বিজ্ঞানীরা এই কাজগুলোর অডিও রেকর্ড করে তা লিখিত আকারে রূপান্তরিত করেন। ৭০০টিরও বেশি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা হয়। যার মধ্যে ছিল কথা বলার মাঝে বিরতি, কথা বলার গতি, কণ্ঠস্বরের তীব্রতা, শব্দভাণ্ডার এবং আবেগের প্রকাশ। যা বিশ্লেষণ করে ‘স্পিচ ক্লক’ জানিয়ে দিয়েছে এদের মধ্যে কে বয়সের সঙ্গে তাল রেখেই বুড়ো হচ্ছেন। আর কারাই বা ‘বুড়িয়ে’ যাচ্ছেন দ্রুত!
