বিগত কয়েক দিন ধরেই দিল্লির রাজপথ বারে বারে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভে পথে নামছে বিরোধী শিবির। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) কর্মসূচিও চলছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলি রুখতে দিল্লিকে ‘অভেদ্য দুর্গ’ বানিয়েছে পুলিশ। দিকে দিকে যেমন ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, তেমনই রাস্তায় থিকথিক করছেন নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মীরা। শুধু পুলিশ নয়, মোতায়েন করা হয়েছে আধাসামরিক বাহিনীও। ২০ হাজারের বেশি জওয়ান পুলিশের সঙ্গে দিল্লির নিরাপত্তা সামলাচ্ছেন। সূত্র উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, আরও অন্তত এক মাস আধাসামরিক বাহিনীর ২০ হাজার জওয়ান দিল্লিতে থাকবেন।
টানা কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিরোধী শিবির। পথে নামবেন আরশোলারাও। তবে কবে কোথায় সেই সব কর্মসূচি হবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। সোমবারই কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যন্তর মন্তরে ঢুকতে দেওয়া হবে না আন্দোলনকারীদের। তবে তিনটি বিকল্প জায়গার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গাগুলি হল— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। এ বার থেকে ওই তিন জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। সিজেপি বা বিরোধী শিবির কোথায় কী করবে, তা চূড়ান্ত না হলেও নিরাপত্তা নিয়ে আগেভাগেই পরিকল্পনা ছকে রাখছে কেন্দ্র।
উৎসবের মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভ। দুইয়ের কথা মাথায় রেখেই দিল্লির নিরাপত্তা ঢেলে সাজানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ২০ হাজার আধাসামারিক জওয়ান মোতায়েন থাকবেন দিল্লির বিভিন্ন জায়গায়। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের প্রস্তাবিত তিন জায়গার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
অন্য দিকে, সোমবার বিকেলে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ‘সুপ্রিম কোর্ট চলো’ কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে একটি বৈঠক করে বিরোধী শিবির। তার পরে সেখান থেকে বাসে চেপে রওনা দেন রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, নেহা বোরারা। সেই বাসের পিছনে পিছনে হাঁটতে থাকেন হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক। বিকেল নাগাদ বাস থেকে নেমে কর্মীদের সঙ্গে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রা, নেহারাও হাঁটতে শুরু করেন। ভগবান দাস মার্গে আটকে দেওয়া হয় বিরোধী জোটের মিছিল।
