সামনে এল চোরবাগান কাণ্ডে মৃতদের ময়নাতদন্তের আরও আপডেট। রবিবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল, ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়ায় অর্থাৎ বুকের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। তবে বেশ কয়েকজনের ক্ষেত্রে মৃত্যুর অন্য কারণও রয়েছে বলে মনে করা হয়েছিল।
চোরবাগান কাণ্ডে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট:
সোমবার ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে জানা গিয়েছে,
মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়ায় দম বন্ধ হয়ে।
অন্যদিকে ভিড় ও পায়ের চাপে পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে গেঁথে দিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।
১ জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হেড ইনজুরি। তাঁর মাথায় আঘাত লেগে মস্তিষ্কের ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়। খুলিতে চোট লাগার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
কোথায় হলো ময়নাতদন্ত:
১৮টি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে হয়েছে।
১টি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে এনআরএস হাসপাতালে।
মোট ৫ জন ফরেন্সিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পোস্টমর্টেম করেছেন।
এক নজরে
ঘটনা: কলকাতার চোরবাগান পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃত ১৯ জনের ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সামনে এসেছে।
১১ জনের মৃত্যু: ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়ায় (Traumatic Asphyxia), অর্থাৎ বুকের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হওয়ায়।
৭ জনের মৃত্যু: ভিড় ও পায়ের চাপে পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে গেঁথে যাওয়ার কারণে।
১ জনের মৃত্যু: মাথায় গুরুতর আঘাত ও মস্তিষ্কের ভিতরে রক্তক্ষরণের কারণে।
ময়নাতদন্তের স্থান: ১৮টি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে। একটি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে এনআরএস হাসপাতালে।
বিশেষজ্ঞ: মোট পাঁচ জন ফরেন্সিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ময়নাতদন্ত করেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ: বৃষ্টি ও ব্যাপক ভিড়ের মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরনোর সমস্যা থেকে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
চোরবাগান পুজো মণ্ডপের দুর্ঘটনা:
শনিবার চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সন্ধ্যা নাগাদ আচমকা বৃষ্টি নামে ওই এলাকায়। সেই সময়ে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়ও হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এখনও পর্যন্ত ১৯ জন মারা গিয়েছেন ওই ঘটনায়। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
FAQ
১. চোরবাগান কাণ্ডে মোট কত জনের মৃত্যু হয়েছে?
সরবরাহ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২. ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ১১ জনের মৃত্যুর কারণ কী বলা হয়েছে?
১১ জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বুকের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ায় তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হয়েছিল।
৩. বাকি সাত জনের মৃত্যু কী ভাবে হয়েছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিড় ও পায়ের চাপে তাঁদের পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে গেঁথে যায়। এর ফলে তাঁদের মৃত্যু হয়।
৪. একজনের মৃত্যুর কারণ কী ছিল?
এক জনের ক্ষেত্রে মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কের ভিতরে রক্তক্ষরণকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
৫. মোট কতটি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে?
মোট ১৯টি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে এবং একটি এনআরএস হাসপাতালে।
৬. কত জন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ময়নাতদন্ত করেছেন?
মোট পাঁচ জন ফরেন্সিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ময়নাতদন্ত করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।