মানুষের জীবনে পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট, কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রতিনিয়ত মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। অথচ শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও সমানভাবে জরুরি। মানসিক প্রশান্তি ও স্থৈর্য অর্জনে ইসলাম অত্যন্ত সুন্দর দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ: ২৮)
দৈনন্দিন জীবনে নিয়ম মেনে নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দোয়া ও জিকির মুমিনের মনে অনাবিল প্রশান্তি এনে দেয়। যেকোনো সংকট বা কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ধৈর্য ধারণের নির্দেশনা রয়েছে কোরআনে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)
তাই বিপদে ধৈর্য ধারণ করার পাশাপাশি ইসলামি নীতি অনুযায়ী সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
মানসিক কষ্টে থাকা মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দেখানো পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া কোনো ব্যক্তির কথা মনোযোগ দিয়ে ও ধীরস্থিরভাবে শুনতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে সহায়তা করতে হবে।
মনে রাখা প্রয়োজন, মানসিক সমস্যা বা অবসাদকে কেবল ‘ইমানের দুর্বলতা’ মনে করা মোটেও সঠিক নয়। ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণের পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসাসেবা ও থেরাপি নেওয়া সুন্নাহসম্মত এবং প্রয়োজন।
আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার হোক—মানসিক কষ্টে থাকা কাউকে অবহেলা না করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এবং সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা।
লেখক: শিক্ষক ও খতিব
