পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর পূর্বপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আওয়াল মেম্বারের বাড়িতে পঞ্চমবারের মতো অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাড়ির একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন আব্দুল আওয়ালের প্রথম স্ত্রী রেহেনা খাতুন, মেয়ে পাপিয়া সুলতানা আঁখি ও তাঁর ছোট মেয়ে। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এর আগেও ওই বাড়ির বিভিন্ন ঘরে চারবার আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবার নিয়ে একই বাড়িতে পাঁচবার অগ্নিসংযোগ করা হলো বলে দাবি এলাকাবাসীর। তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল আওয়াল প্রায় ৩০ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে মথুরাপুর স্কুলপাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে প্রথম স্ত্রী রেহেনা খাতুন এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার রাতে আগুন ও ধোঁয়া দেখে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন রেহেনা খাতুন ও তাঁর মেয়ে। পরে তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভাতে সহায়তা করেন। খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর চাটমোহর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে তার আগেই স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তার মেম্বার বলেন, “এর আগেও কয়েকবার এই বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। জমিজমা নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে।”
সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বলেন, “যারা ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন, তাঁদের প্রাণহানিও ঘটতে পারত। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
একই বাড়িতে বারবার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান বলেন, “বর্তমানে পূজা নিয়ে অনেক ব্যস্ত আছি। থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমএ
