কালবেলা · সাধারণ
আমরা জলাতঙ্কমুক্ত নগর গড়তে চাই: সিসিক প্রশাসক
১২/১০/২০২৬

জলাতঙ্কমুক্ত নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নগরীকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখার যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম কুকুরকে টিকাদান। প্রাণী নিধন করা যাবে না, তাই কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নগরীর মির্জাজাঙ্গালে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যতে তিনি এ কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত খাবার পড়ে থাকে, সেসব এলাকায় কুকুরের বিচরণ বেশি। সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য অপসারণের আগের সময়েও কুকুরগুলো খাবারের সন্ধানে এসব স্থানে জড়ো হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাতেও কুকুরের উপদ্রবের কথা জানানো হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, টিকাদানের ফলে কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। তবে কেউ কুকুরের কামড়ের শিকার হলে কোনোভাবেই বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কুকুর নিধনের উদ্যোগ নিত। বর্তমানে প্রাণী নিধনের সুযোগ নেই। তাই টিকাদানের মাধ্যমে কুকুর থেকে মানুষের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোই কার্যকর পথ। সিসিক নাগরিকদের কল্যাণে কাজ করে। তাই প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগকে সহযোগিতা করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন অর্থসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেশি হলে সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে। সিসিকের হটলাইন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তথ্য দেওয়া যাবে।
একই অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সিসিকের অর্থায়নে ১৫ দিনব্যাপী নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এতে টিকা দেওয়া ও না দেওয়া কুকুর সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কোঅর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন।
উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এ কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তা ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হবে এবং টিকাপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকে রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে।
এদিকে, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। এ উপলক্ষ্যে আজ নগর ভবনে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম বিষয়। এ প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রত্যেক নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ১, ২ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। ধারাবাহিকভাবে ৪২টি ওয়ার্ডের সব পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রত্যেককে ট্যাব দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
নগরবাসীর প্রতি তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ভুল তথ্যের ওপরই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। এ কর্মসূচি সফল করতে সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে জোনাল অফিসাররাও কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗