আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে পুজো মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়। দুইয়ের মধ্যেই কয়েক মিনিটেই শেষ ১৯টি তরতাজা প্রাণ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২৫ জন। দুর্গাপুজোয় বেনজির বিপর্যয়ে হাহাকার শহরে। বাংলাতেও শোকের ছায়া। এই পরিস্থিতিতে চোরবাগান সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করল কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্টের ঘটনার পর চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ১৬৩ ধারা জারি থাকবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। চোরবাগান ছাড়াও কোন কোন রাস্তায় জমায়েত করা যাবে না?
পুলিশ জানিয়েছে, কলুটোলা স্ট্রিট থেকে কলেজ স্ট্রিট হয়ে ইডেন হাসপাতাল, এই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। কলুটোলা স্ট্রিট থেকে সিআর অ্যাভিনিউ হয়ে ইডেন হাসপাতাল এলাকায় ১৬৩ ধারা রয়েছে। কলেজ স্ট্রিট থেকে কলুটোলা স্ট্রিট হয়ে সিআর অ্যাভিনিউয়ে ১৬৩ ধারা জারি করেছে সরকার। কলেজ স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল হয়ে সিআর অ্যাভিনিউয়েও ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। এই রাস্তায় আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জমায়েত করা যাবে না।
ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, 'উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে অত্যন্ত মর্মান্তিক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জন মারা গিয়েছেন, আহত ২৫। যাঁর মধ্যে গুরুতর আহতও আছেন। আমরা প্রত্যেকের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছি।' সঙ্গেই তিনি বলেন, 'প্রাথমিকভাবে ক্লাবের পক্ষ থেকে মাইক একটি ঘোষণার পরেই এই পদপিষ্টের মতো বা শ্বাসকষ্টের ঘটনা ঘটার কারণেই এতগুলি মৃত্যু হল। অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা পুজোর মধ্যে ঘটল। আমাদের প্রাথমিক কাজ স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আহত আছেন, তাঁদের সুস্থ করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। সরকার একযোগে কাজ করছে।'
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে, দ্রুত এই দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, 'ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুজোকমিটি, প্যান্ডেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, প্রাইভেট এবং কলকাতা পুলিশের, প্রত্যেককে থানাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত করতে।' ফরেন্সিক না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে না যাওয়ার অর্জিও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
